সম্মান শ্রেণির পরীক্ষায় হচ্ছে অসম্মান

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ¯œাতক ১ম ও সম্মান ২য় বর্ষের পরীক্ষায় নানা অনিয়ম ও শিক্ষা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব, ছাত্রলীগের উৎপাত, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও বহিস্কার এমনকি শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ দুর্নীতির মত অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই বিভাগের পরীক্ষা নগরীর চার কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানায় অভিযোগকারী সংশ্লিষ্টরা। বিএম কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, মহিলা কলেজ ও বরিশাল কলেজ এই চার কেন্দ্র। ১৮এপ্রিল শুরু হয় ডিগ্রি ১ম বর্ষের পরীক্ষা। শুরুর দিনই প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে ধরাশাই হয় শিক্ষার্থীরা। অতি লোভে ছাত্রলীগ এর নামী বেনামী নেতাদের পাঠানো এসএমএস এ পাওয়া ভূয়া উত্তরে ধরাশায়ী হযে তারা। একই দিনে পরীক্ষায় কেন্দ্রে নকল সরবরাহের অপরাধে অবৈধ কর্মপরিষদের জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাত হন অবরুদ্ধ। একই সাথে তাকে সহযোগীতার অভিযোগে সাময়িক বহিস্কার হয় ইতিহাস বিভাগের পিয়ন উত্তম ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের পিয়ন আবু তাহের। ২২এপ্রিল শুরু হয় সম্মান ২য় বর্ষের পরীক্ষা। পরীক্ষার সাথেই শুরু হয় ছাত্রলীগ নামধারীদের উৎপাত। প্রত্যেক দিনই তাদের সহচরদের প্রশ্ন উত্তর সরবরাহ করছে তারা। সাধারন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুসারে, তাদের সহায়তা করে শিক্ষক ও প্রশাসনও। প্রকাশ্যে উত্তর সরবরাহ করে তারা। এমনকি অভিযোগ আছে আদুরে ওই সকল শিক্ষার্থীদের নানা ছলে সরাসরি শিক্ষকদের সহায়তায় লিখে দেয়ার বিষয়ও। গত ৩০ এপ্রিল সরকারি বরিশাল কলেজে ছাত্রলীগ এর কর্মী ইংরেজী ২য় বর্ষের পরীক্ষায় ছাত্র উত্তরপত্র বাইরে পাঠিয়ে হয় বহিস্কার। তালহা যোবায়ের নামের ওই ছাত্র তার উগ্র আচরন ও কৌশলে অসদুপায় অবলম্বনের জন্য চূড়ান্ত বহিস্কার হতে পারে বলে জানায় কর্র্তৃপক্ষ। সবশেষ গতকাল হাতেম আলী কলেজ কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে যাওয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে পুলিশের এসআই দেলোয়ারের সাথে হয় বাকবিতন্ডা। পরে তা মিমাংসা করে দেন হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষ। এমন একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারন শিক্ষার্থীরা বলে জানায় অভিযোগকারী সূত্রটি। অবৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করে বখাটেরা এগিয়ে যাচ্ছে যাতে নষ্ট হচ্ছে সাধারন শিক্ষার্থীদের স্পৃহা, একই সাথে প্রতিদিন এমন ঝামেলার কারণে বিঘিœত হচ্ছে তাদের পড়াশুনা বলেও জানায় অভিযোগকারীরা। এ বিষয়ে ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়। যারা এমন ঘটনা তৈরি করে সাধারন শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করছে তাদের প্রচলিত আইনে শাস্তি হওয়া দরকার। অপরাধি যেই হোক অবশ্যই তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।