সমালোচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পলিটেকনিক ও আইএইচটি

জুবায়ের হোসেন॥ বার বার বিতর্কিত কর্মকান্ড ও দাবী আদায়ের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে নগরের দুই স্বনামধন্য কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানদ্বয় হলো- বরিশাল পলিটেকনিট ইনস্টিটিউট ও ইনষ্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজী (আইএইচটি)।
দক্ষ প্রকৌশলী ও চিকিৎসা যন্ত্রবিদ (টেকনিশিয়ান) তৈরি কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব, অতি আধুনিকতা, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কিছু অসাধু শিক্ষকদের প্ররোচনায় শিক্ষার্থীরা ভুল পথে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কাজে জড়াতে উৎসাহ দিয়ে তাদের করে তুলছে ধ্বংসাত্মক। এতে শিক্ষার্থীরা পারষ্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে অপরাজনীতিতে, জড়াচ্ছে ইভটিজিংয়ে, করছে মাদক সেবন, দাবী আদায়ের আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ করে ভোগান্তিতে ফেলছে, ভাংচুর করছে যানবাহন, সৃষ্টি করছে বিশৃঙ্খলাও ।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে তারা। তবে প্রভাবিত যারা করছে তারা থাকছে নেপথ্যে আর সাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে শিক্ষার্থী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সমালোচিত। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বরিশাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রকৌশলি তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সংযুক্ত ছাত্রাবাস ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে তা নজরে পরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন পলিটেকনিক এর ছাত্রদের প্রতি তাদের আকর্ষণ থাকে বেশি। কারণ এখান থেকে সহজেই বড় একটি মিছিল বের করা সম্ভব তাদের। আর এই জন্য তারা তৈরি করেন তাদের অভ্যন্তরিণ প্রতিনিধি। যারা তাদের জন্য লোকবল সরবরাহ করে থাকে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক এ সকল ছাত্রদের রাজনীতিতে যুক্ত করায় তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় একাধিক দলের। যার ফলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদিন বাঁধে সংঘর্ষ। তাদের মধ্যে এমন ধারণা কাজ করে যে কাউকে মেরে বা ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে যদি তা প্রকাশ করা যায় তবেই নেতা হওয়া যাবে। কারণ এমন কাজ এর নেতৃত্ব দিয়েই বরিশাল পলিটেকনিক থেকে বড় পদবির ছাত্রনেতা তৈরি হয়েছেন। এছাড়াও ইভটিজিং নিয়ে সংঘর্ষ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মালামাল ছিনিয়ে নেয়া, ছাত্রাবাসে মাদক সেবন ও কলেজ সংলগ্ন ম্যাচ বাসা গুলোতে মাদক সেবিদের আড্ডাখানা ও অস্ত্রাগারে পরিণত করেছে এই প্রতিষ্ঠানের কিছু ছাত্র। যারা ক্ষমতাসীন একাধিক ছাত্রনেতার ছায়ায় চলে। এই পরিস্থিতির জলন্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় বিগত কয়েক মাসের সংঘর্ষের ঘটনা গুলোকে। যা হয়েছে উপরের কারণ গুলোতেই। এতে আহত হয়েছে অনেকে এবং আটকও হয়েছে বেশ কিছু ছাত্র। এছাড়া এই ধরনের ঘটনায় শিকার হয়ে এক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রশাসনের দূর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটছে। অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে কলেজে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। পূর্বের ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে জামাই আদরে ছেড়ে দিয়েছে। উল্টো তাদের বহিষ্কার করে দিতে বলে। আর ক্যাম্পাসে যে পুলিশ রয়েছে তারা ছাত্রদের সাথে এতটাই বন্ধুসুলভ যে একসাথে ধূমপান পর্যন্ত করে থাকে। সর্বোপরি কলেজের সুনাম রক্ষার্থে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না হয় সে নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে।
অপরদিকে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) অবস্থাও বেশ শোচনীয়। এখানে ছাত্রদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব তো রয়েছেই সাথে রয়েছে কিছু অসাধু শিক্ষকের আন্দোলনের নামে ছাত্রদের উস্কে দেয়ার বিষয়টি। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চার বছরেই বেশ সুনাম অর্জন করলেও বিতর্কিত ও হয়েছে সমানভাবে। সাধারণের মনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তাদের আন্দোলনের নামে রাস্তায় অবস্থান এর মত কাজের কারণে। এছাড়াও ইভটিজিং, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার মত ঘটনা ঘটছে অসংখ্য বার। ইতিপূর্বে এক ছাত্রীকে সামাজিক গণমাধ্যম ফেইসবুকে রাজনৈতিক পছন্দের দল বিএনপি থাকায় শিকার হতে হয়েছে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে। সর্বশেষ তারা নেমেছে ১০ দফা দাবী আদায়ের যৌক্তিক ও ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে। সপ্তাহব্যাপী চলা এই আন্দোলনের প্রথম দিকে তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধনের মত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। তবে তাদের এই যৌক্তিক আন্দোলন এখন ব্যস্ত সড়কে বসে পরে সাধারণের জীবনযাত্রা বিঘিœত করার পর্যায়ে চলে গেছে। যে কারনে কুড়িয়েছে সাধারণের সমালোচনা। এ বিষয়ে আইএইচটি’র অধ্যক্ষ ডাঃ কুমদ রঞ্জন বালা বলেন, ছাত্রদের এই দাবী তাদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের দ্বারা উত্থাপিত যা পূরণ তার পক্ষে সম্ভব নয়। সড়কে বসে পড়ে আন্দোলনের বিষয়টি তিনি জানেন না। কলেজে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হয়েছে বলে জানেন। তবে ছাত্রদের আন্দোলন কখনই সাধারণের জীবনযাত্রা বিপন্ন করে হওয়া উচিত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।