সমাজ সেবা উপ-পরিচালককে শোকজ॥ উপ-তত্তাবধায়ক বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর শিশু পরিবারে ২ শিশুকে নির্মম ভাবে নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তিমূলক বদলি হলেন প্রতিষ্ঠানের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ইসমত আরা খানমকে। সেই সাথে দায়েত্ব অবহেলার দায়ে শোকজ করা হয়েছে বরিশাল সমাজ সেবা উপ-পরিচালক মনজ কুমার ঘরামিকে। তাছাড়া শিশুদ্বয়কে নির্যাতনকারী স্বাস্থ্যসেবা সহকারী দুলালের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে আরো কঠোর ব্যবস্থা।
শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের উপর ভিত্তিকরে এবং বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান এর সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এ.কে.এম খায়রুল হক আজকের পরিবর্তনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বরিশাল শিশু সদন (উত্তর) এ শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে পড়লে দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে প্রকৃত ঘটনা এবং আর কারন নির্নয়ে কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামানকে নির্দেশ দেয়া হয়।
পরিচালক এ.কে.এম খায়রুল হক বলেন, তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত করে ঘটনার কারন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের মাধ্যমে প্রতিবেদন অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। তদন্ত কমিটি এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশ অনুযায়ী বরিশাল সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজ কুমার ঘরামিকে শোকজ এবং শিশু পরিবার (উত্তর) এর উপ-তত্ত্বাবধায়ক ইসমত আরা খানমকে বদলি করে মানিকগঞ্জে প্রেরন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র মানিকগঞ্জ সমাজ সেবা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, এই দু’কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি ৪ জুলাই ঘটলেও তারা ঘটনাটি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেছে। সেই সাথে বিষয়টি যাতে কারো কাছে প্রকাশ না করে সে জন্য নির্যাতনের শিকার শিশুদ্বয়কে প্রভাবিত এবং ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা এবং অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আর তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এছাড়া নির্যাতনকারী স্বাস্থ্যসেবা সহকারীর প্রেশন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে আরো গুরুতর ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন বলেও নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান পরিবর্তনকে জানান, শিশু পরিবারে শিশু নির্যাতনের ১৪ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজ কুমার ঘরামী, সহকারী কমিশনার সুখময় সরকার, প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, ডা. আবদুর রশীদ, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
তিনি জানান, গত ২১ জুলাই তদন্ত কমিটির প্রধান অভিযুক্তদের বিচারের সুপারিশ করে তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়গুলোই বাস্তবায়নের সুপারিশ করে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে প্রেরন করা হলে সেখান থেকেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, তদন্ত করে শিশু পরিবারে আরো কিছু অনিয়ম খুঁজে পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে কর্মচারিদের দীর্ঘদিন বদলী না হওয়া, শিশুদের নি¤œ মানের খাবার সরবরাহ, চিত্তবিনোদনের অভাব, শিশু পরিবারে অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ, মনিটরিং না থাকা সহ বিভিন্ন বিষয়।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। সেই সাথে কর্মচারীদের আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বদলীর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তিনি।
উল্লেখ্য, মায়ের সাথে দেখা করতে যাওয়ার অপরাধে গত ৪ জুলাই সমাজ সেবা অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত নগরীর আমতলার মোড় শিশু পরিবারে আখি ও ডালিয়া নামের দুই শিশু নিবাসীকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে সেখানকার স্বাস্থ্য সেবা সহকারী দুলাল।