সমঝোতার আগেই অভ্যন্তরীন রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তের আগেই বরিশালের অভ্যন্তরিন রুটে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘট উপেক্ষা করে মালিক সমিতির হস্তক্ষেপে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল শুরু করে। এর ফলে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার পর নগরীর নৌ বন্দর থেকে অভ্যন্তরিন রুটের বেশ কয়েকটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তবে মালবাহী জাহাজ চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে।
এদিকে লঞ্চ চলাচল নিয়ে দুপুরে শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নৌ বন্দরের পন্টুনে দার্বিং করা তিনটি লঞ্চ জোর করে পন্টুন থেকে সরিয়ে নদীর মাঝ খানে দার্বিং করে। অবশ্য সন্ধ্যায় লঞ্চ তিনটি নৌ বন্দরে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি রাতে তিনটি লঞ্চই যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মো. আব্দুর রহিম জানান, এক শ্রেণির অবৈধ শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে যাত্রী এবং নৌযান মালিকদের জিম্মি করে ধর্মঘট ডেকেছে। এর ফলে গত মঙ্গলবার থেকে বরিশালের অভ্যন্তরিন নৌ রুট গুলোতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে করে নৌ রুটগুলো অচলাবস্থায় পরিনত হয়। ভোগান্তিতে পড়ে ভোলা, পটুয়াখালী এবং ঝালকাঠি সহ বিভিন্ন রুটের হাজার হাজার যাত্রী।
তিনি বলেন, অবৈধ শ্রমিকদের ডাকা নৌ শ্রমিক ধর্মঘটের নামে ষড়যন্ত্র আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ নস্যাৎ করে দিয়ে অভ্যন্তরিন রুটে আমাদের নিজেদের হস্তক্ষেপে লঞ্চ চলাচল শুরু করেছি। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে অভ্যন্তরিন রুটে ছোট লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুপুর ২টায় নগরীর নৌ বন্দর থেকে সুরভী নামের একটি লঞ্চ সর্বপ্রথম যাত্রী নিয়ে ভোলার ভেদুরীয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। লঞ্চটি শ্রীপুর হয়ে সন্ধ্যায় ভেদুরীয়া ঘাটে পৌচেছে। এছাড়া বিকাল ৪টায় গ্রীন ওয়াটার-৫ নামের আরো একটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। লঞ্চটি পাতারহাট হয়ে সন্ধ্যার পর মজুচৌধুরীর হাটে পৌচেছে। দুটি লঞ্চই আবার কাল ছেড়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে অভ্যন্তরিন রুটে লঞ্চ চলাচল শুরুর পূর্বে নৌযান শ্রমিকরা নৌ বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এসময় তারা নৌ বন্দরে থাকা বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি কীর্তনখোলা-২, সুরভী-৮ ও সুন্দরবন-১০ লঞ্চ জোর পূর্বক ঘাট ছেড়ে কীর্তনখোলা নদীর মাঝে দার্বিং (নোঙ্গর) করে রাখে। এসময় নৌ বন্দরে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও নৌ পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে।
অপরদিকে কীর্তনখোলার মোহনায় দার্বিং করা লঞ্চ গুলো বিকালে নৌ টার্মিনালে ফিরিয়ে আনে শ্রমিকরা। এমনকি চলমান শ্রমিক আন্দোলনের চতুর্থ দিনেও বরিশাল নৌ বন্দর থেকে এমভি কীর্তনখোলা-২, সুরভী-৮ ও সুন্দরবন-১০ সহ ৫টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ঠিক সেভাবে করেই ঢাকা সদর ঘাট থেকেও যাত্রী নিয়ে চারটি লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।
আন্দোলন এবং লঞ্চ চলাচল প্রসঙ্গে নৌ যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি মালিক পক্ষ দাবী মেনে নেয়ার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, লঞ্চ মালিকদের কিছু ভাড়াটে লোক রয়েছে। যারা জোর জবস্তি করে শ্রমিকদের আন্দোলন বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে। তাদের মাধ্যমেই মালিকরা জোর পূর্বক যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। অদক্ষ এসব লোক দিয়ে লঞ্চ পরিচালনার কারনে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সে দায় ভার লঞ্চ মালিকদেরকেই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বরিশাল নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল মোতালেব বলেন, নদী বন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা কাজ করছেন। কেউ বিশৃঙ্খলা কিংবা অশান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কেউ যাত্রীদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে সে বিষয়টি অভিযোগের উপর ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।