সদর সাব রেজিষ্ট্রারের অনিয়মে বিক্ষুব্ধ গ্রাহক ও দলিল লেখকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সদ্য যোগদানকারী বরিশাল সদর সাব রেজিষ্ট্রারের অনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গ্রাহক ও দলিল লেখকরা। তার তৈরী করা নিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধরা। বেলা ১২টা থেকে গ্রাহক ও দলিল লেখকদের শুরু হওয়া বিক্ষোভ বিকাল ৫ টায় সমঝোতা করেন জেলা রেজিষ্ট্রার জিতেন্দ্রনাথ সিকদার।
বিক্ষোভকারী দলিল লেখকরা জানান, বরিশাল সদর সাব রেজিষ্ট্রার পদে গতকাল মঙ্গলবার যোগদান করেন রফিকুল ইসলাম। এসেই পূর্বের সকল নিয়ম কানুন পরিবর্তন করে নিজের মনগড়া নিয়ম চালু করেন। পাশাপাশি পার্সেন্টেজ আদায়ের লক্ষ্যে গ্রাহকদের জিম্মি করেন তিনি।
তারা জানান, একজন ব্যক্তি বিদেশে থাকলেও তার নামে দলিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ইতিপূর্বে এমন নিয়মেই চলে আসছিলো। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার হঠাৎ করেই সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম যোগদান করে সেই নিয়ম পাল্টে ফেলেন। বিদেশে থাকা ব্যক্তির নামে দলিল করতে হলে শুধু কাগজপত্র থাকলেই হবে না। ঐ ব্যক্তিকেও স্ব-শরীরে রেজিষ্ট্রার অফিসে উপস্থিত করার জন্য বলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ইতিপূর্বে দলিলের সাথে সংশ্লিষ্টদের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিলেই হতো। কিন্তু সদ্য যোগদানকারী সাব রেজিষ্ট্রার এই নিয়ম পাল্টে ফেলে ফটোকপির সাথে মূল কপি এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারকে তার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়াও সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলামের এমন নিয়মের কারণে শত শত গ্রাহক এবং দলিল লেখকরা দিনভর ভোগান্তির শিকার হয়।
এ নিয়ে গতকাল বেলা ১২টা থেকেই সদর সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে গ্রাহক এবং দলিল লেখকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে আবার ভর দুপুরে গ্রাহকদের রোদের মাঝে দাঁড় করিয়ে রেখে সাব সেরজিষ্ট্রার অফিস থেকে বেরিয়ে যান। যে কারণে দুপুর দুইটার দিকে দলিল গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা জুতা এবং ঝাড়– দেখিয়ে লাঞ্ছিত করে সাব রেজিষ্ট্রারকে। এসময় তাদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত হন দলিল লেখকরা। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এমন বিক্ষোভ চলতে থাকলে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হয়।
পরবর্তীতে জেলা রেজিষ্ট্রার জিতেন্দ্র নাথ সিকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তিনি সদ্য যোগদানকারী সাব রেজিষ্ট্রারকে তার মনগড়া নিয়ম বাদ দিয়ে পূর্বের নিয়মেই দলিল তৈরীর কার্যক্রম চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশ করলে আন্দোলনকারীরা শান্ত হয়।
একাধিক দলিল লেখক জানান, সাব রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ের পিয়ন শাহিনের পরামর্শ অনুযায়ী সদ্য যোগদানকারী সাব রেজিষ্ট্রার রফিকুল ইসলাম এমন নিয়ম চালু করেন। এতে করে তার অবৈধ পথে আসা পার্সেন্টেজের পরিমানও বৃদ্ধি করতেই নতুন নিয়ম চালুর চেষ্টা করেন বলে সাব রেজিষ্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এর সাথে সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী, কিছু দলিল লেখক এবং অফিস পিয়ন শাহিন জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন সাধারণ দলিল লেখকরা।