সদর ঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলার সিদ্ধান্ত বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল ঢাকা-নৌ রুটের যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের ষড়যন্ত্র ভেস্তে গিয়েছে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানের কারনে রাজধানী ঢাকার সদর ঘাটের পন্টুন আর পরিবর্তন করতে হচ্ছে না। গতকাল রোববার ঢাকায় বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে কারনে শুধু মাত্র লঞ্চ কর্তৃপক্ষই নয় দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেলো যাত্রীরাও।
সূত্রমতে, রাজধানীর সদরঘাট নৌ-বন্দরে ভেড়া নৌ-যানের মধ্যে আধুনিক, বিলাসবহুল, বৃহৎ ও বেশি যাত্রী বোঝাই থাকে বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে যাওয়া লঞ্চে। ভ্রমন পিপাসুরা শখেও বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চে উঠে। প্রতিদিন বরিশাল ও ঝালকাঠি থেকে অর্ধ লাখেরও বেশি যাত্রী যাওয়া আসা করে। কিন্তু এসব যাত্রীদের মহাদুর্ভোগে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানীর সদর ঘাটের বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশাল-ঢাকা এবং ঝালকাঠি রুটের বৃহৎ এবং বিলাশবহুল লঞ্চগুলো আর সদর ঘাটের প্রধান পন্টুনে ভেরাতে পারবে না। এর মধ্যে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চের যাত্রীদের উঠানো এবং নামানোর জন্য ঘাটের পশ্চিম প্রান্তের ১ থেকে ৩ নম্বর পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের যাত্রী উঠা এবং নামানোর জন্য ৪নম্বর পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. শফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই আদেশ জারী করা হয়। এই নির্দেশ অমান্য করা হলে লঞ্চের রুম পার্মিট বাতিল অথবা সময়সূচী স্থগিত করা হবে বলেও পরিপত্রের মাধ্যমে হুশিয়ার করা হয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কারনে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের থেকেও বেশি ভোগান্তির সম্মুক্ষীন হতে হয় যাত্রীদের। কেননা যেখানে বরিশাল-ঢাকা এবং ঝালকাঠি রুটের লঞ্চঘাট দেয়ার জন্য স্থান নির্ধারন করে দেয়া হয় সেখানে যাত্রীদের পৌছতে অনেক সময় লেগে যাবে। কিন্তু এতটা পথ হেটে লঞ্চে ওঠা এবং নামার পরে দীর্ঘ পথ হেটে বন্দর ত্যাগ করাটা শিশু এবং বৃদ্ধ সহ সাধারন যাত্রীদের জন্য কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়াবে। এসব বিষয়ে অবগত থেকেও ঢাকার আশেপাশের কিছু লঞ্চ মালিকদের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়। যে কারনে বরিশাল-ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের লঞ্চ যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নেন এ অঞ্চলের সাধারন মানুষ।
এদিকে এসব বিষয়ের উপর ভিত্তিতে করে লঞ্চ মালিকদের কঠোর অবস্থানের কারনে শেষ পর্যন্ত পূর্বে নেয়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। যে কারনে নতুন স্থানে নয়, সদর ঘাটের পূর্বের প্রধান পন্টুনেই বরিশাল-ঢাকা এবং ঝালকাঠি রুটের যাত্রীদের উঠানো এবং নামানো হবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের নেয়া সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরবন লঞ্চের চেয়ারম্যান এবং যাত্রীবাহী নৌ পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সকাল ১১ টায় বিআইডব্লিউটিএর কনফারেন্স কক্ষে সভা হয়। বিআইডব্লিউটিএ, লঞ্চ মালিক ও লঞ্চ অপারেটরদের নিয়ে সভায় সিদ্বান্ত নেয়া হয় সদর ঘাটের ৭ ও ৮ নং পন্টুন ব্যবহার করা হবে। এখন থেকে এ অঞ্চল থেকে সদরঘাটগামী সকল লঞ্চ ওই দুই পন্টুন থেকে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হবে।