সদর উপজেলার সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যানকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নিয়ে কটুক্তি করায় বরিশাল সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দ এক সভার মাধ্যমে তাকে চর বাড়িয়া ইউনিয়নে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেন। সেই সাথে রেহানা বেগমের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা।
চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আব্দুল খালেক হাওলাদার জানান, সম্প্রতি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক রেহানা বেগম পরিবারতন্ত্র করে চরবাড়িয়া ইউপি মহিলা লীগের কমিটি গঠন করেছেন। সেখানে ইউনিয়ন আ’লীগের কোন নেতা-কর্মীকে না জানিয়ে তার আপন বোন ঝর্না বেগমকে সভাপতি ও ছালমা বেগমকে সাধারন সম্পাদক করে মনগড়া কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি আ’লীগ নেতৃবৃন্দকে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়নি কেন জানতে চাইলে আবুল খালেক হাওলাদারকে মোবাইল ফোনে কটুক্তি করে। তার পাশাপাশি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগকে ‘ঝাটা মারি” বলে কটুক্তি করে।
আঃ খালেক জানান, বিষয়টি অন্যান্য নেতা-কর্মীদের মাঝে জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। এরই জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের দলীয় কার্যালয়ে আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- ইউপি আ’লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক হাওলাদার. সাবেক সাধারন সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির ২ নং সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহাতাব হোসেন শুরুজ সহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগমকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে রেহানা বেগমের বিচার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ আরো জানান, রেহানা বেগম এর পূর্বেও গত ২৪ এপ্রিল তার একক সিদ্ধান্তে ইউনিয়ন কৃষক লীগের কমিটি করেছে। এই কমিটিতেও তার কামাল মুন্সিকে সভাপতি, মামা শ্বশুর ও বিএনপি সমর্থক কাশেম চৌকিদার, মামাত ভাই মোসলেম ও খালাতো ভাই আমিনুল ইসলামকে সদস্য করে পারিবারিক কমিটি ঘটন করেছে। কিন্তু কৃষক লীগের এই কমিটি গঠনের জন্য গত ২৬ মার্চ ইউপি আ’লীগ একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তা উপেক্ষা করেছেন।
এদিকে ইউপি আ’লীগের গোপন সূত্র জানায়, কমিটি গঠন ছাড়াও রেহানা বেগমের সাথে কাবিখার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ইউপি আ’লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। রেহানা বেগম ইতোপূর্বে ইউপি আ’লীগের কিছু নেতাদের নিয়ে কাবিখার সকল টাকা আত্মসাত করে আসছিলো। হঠাৎ করে ইউপি আ’লীগ নেতারা কাবিখার টাকার ভাগ বৃদ্ধির জন্য নতুন করে আরো ২০ জনের নাম দিয়ে তালিকা দেন রেহানার কাছে। এ নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ইউনিয়ন আ’লীগকে ঝাটা পেটা করার কথা বলে কটুক্তি করেন রেহানা বেগম। মূলত এজন্যই রেহানা বেগমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। তবে ইউপি আ’লীগের নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, কাবিখার টাকা আ’লীগ নেয়নি। সব টাকা রেহানা এবং তার আত্মিয় স্বজন সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে।