সদর উপজেলার চরবাড়িয়ায় ইউপি ভোটের হালচাল

রুবেল খান ॥ জমে উঠতে শুরু করেছে সদর উপজেলার ১০ ইউপির ভোটের লড়াই। আগামী ২২ মার্চের ভোটের দিনের জন্য শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকের নির্বাচন নিয়ে শুধু ইউপি’র বাসিন্দা নয়, এই নগরীর চায়ের কাপেও ঝড় তুলছে “ভোট গ্রহণের পরিবেশ কেমন হবে”। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আ’লীগ না বিএনপির কিংবা অন্য দলের মনোনীত প্রার্থীরা চেয়ারম্যান হবেন সেই হিসেব নিকেশ করছে ভোটার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। অন্য দুই পদের সংরক্ষিত ও সাধারন সদস্য (মেম্বর) দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী দেয়া না হলেও প্রচার-প্রচারণায় দলীয় ব্যানার ব্যবহার নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। প্রচার-প্রচারনায় কোন প্রার্থী বেশি সক্রিয়, কোন প্রার্থীর যোগ্যতা কেমন, কার জয়ের পাল্লা ভারী সেই বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।এমন আলোচনা সমালোচনায় চরবাড়িয়া ইউপির ভোট কেমন হবে, আ’লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে, কার প্রচারনা কেমন তা নিয়েও কৌতুহলী আলোচনা সমালোচনার অন্ত নেই। বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন অফিস
সূত্রে জানা গেছে, এই নগরীর উপকণ্ঠ চরবাড়িয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তিন প্রার্থীরা হলো- আ’লীগের মনোনীত মাহাতাব হোসেন সুরুজ, বিএনপির মনোনীত দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম সাবু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হানিফ খান।
ওই ইউপি ঘুরে সাধারণ মানুষের আলোচনায় যা উঠে আসছে তা হলো- প্রার্থী তিনজন হলেও বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির মনোনীত সাবু ও আ’লীগের সুরুজ’র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
বিএনপি’র ঘাটি হিসেবে পরিচিত তাই চরবাড়িয়া ইউপিতে ধানের শীষের গণজোয়ারের কথাও ভাবছেন ভোটাররা। বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী জিয়াউল ইসলাম সাবু শুধুমাত্র দলীয় ভোট নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ’লীগের ভোটও পাবেন বলে মনে করছেন তারা।
এর কারণ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের চরবাড়িয়া ইউনিয়ন শাখার বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যেই ঐক্য নেই। ইউপিতে চতুর্মুখী গ্রুপিং। তার মধ্যে আবার দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও নেতা-কর্মীরা হতাশাগ্রস্ত।
তারা বলেন, এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনয়ন শহীদুল ইসলাম ওরফে ইটালি শহীদের পাবার কথা ছিলো। এমনকি মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনায় ছিলেন আ’লীগের ইউপি সম্পাদক এসএম সাইফুল আলম সায়েম শরীফ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাকে মনোনিত করা হয়েছে তিনি ভোটের রাজনীতিতে একেবারেই বেমানান। তারা মাহাতাব হোসেন সুরুজের ভালোর দিকটা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, তিনি বংশগত ভাবেই আ’লীগের সাথে জড়িত। দলের দুঃসময়েও পাশে ছিলেন তিনি। তবে তা শুধুই নিজের জন্য। তিনি আ’লীগের নেতা হিসেবে ইউপি’র কোন নেতা-কর্মী সুযোগ সুবিধা চেয়ে পেয়েছেন কিনা তা কেউ বলতে পারবে না। শুধু মাত্র দল দিয়ে মনোনীত করা হয়েছে বিধায় দলীয় নেতা-কর্মীরা তার পেছনে হাটতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু আওয়ামী লীগের ভোটই নয়, তার নিজ বাড়ির পাশের স্বজনরাও সুরুজকে ভোট দিবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রবীন নেতারা।
অপরদিকে চরবাড়িয়ার লামছড়ি এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে বিএনপি’র প্রার্থী ও পরপর দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম সাবু’র বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, জানি আমাদের ভোট আছে। সুযোগ পেলে একটি ভোট দিব। যিনি ক্ষমতায় না থেকেও আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন, তার সাথে কখনো বেইমানী করা ঠিক হবে না। এমনকি সুষ্ঠু ভোট হলে এই ইউনিয়নে পূনরায় বিএনপি’র প্রার্থীই তৃতীয় বারের ন্যায় নির্বাচিত হবে বলে মনে করছেন তারা।