সদর আসনের এমপির নামে ছাত্রলীগের একাংশের টেন্ডার ত্রাস

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর দুটি সরকারী দপ্তরের সাড়ে চার কোটি টাকার দরপত্র বাগিয়ে নিয়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের একাংশ। বরিশালের এক সংসদ সদস্য’র নাম ভাঙ্গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর এ গুছ কার্যক্রম চালিয়েছে তারা। এতে সাধারন ঠিকাদাররা ক্ষুব্ধ হলেও ক্ষমতাসীনদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
জানাগেছে, গত ২৯ এপ্রিল নগরীতে মেরিন একাডেমি নির্মানে দরপত্র আহবান করে গনপূর্ত বিভাগ। ১৫ মাসের নির্ধারতি সময়ে নির্মান কাজের ব্যয় নির্ধারন করা হয় চার কোটি টাকা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ২৭ এপ্রিল শেষ দিন পর্যন্ত বরিশালের ক্ষমতাসিন দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দরপত্র সংগ্রহ করেন সাধারন ঠিকাদারাও। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন বেলা ১২টার মধ্যে একমাত্র ছাত্রলীগ ছাড়া চার কোটি টাকার কাজের বিপরীতে দরপত্র জমা দিতে পারেনি কেউ।
এমন অভিযোগ করে প্রথম শ্রেনীর একজন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, সকালে দরপত্র জমা দিতে নগরীর বান্দ রোড ভাটার সংলগ্ন গনপূর্ত বিভাগে যাই। ভেতরে প্রবেশের আগেই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং তার সমর্থকরা জানায়, দরপত্র জমা দেয়া যাবে না। কার এটা ভাবির কাজ। এখন যা বোঝেন করেন। ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমের এমক কথা শুনে চলে আসা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না।
অপর এক ঠিকাদার নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক শর্তে পরিবর্তনকে জানান, প্রথমে ভাটার খাল গনপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে যাই। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগের জসিম ও তার সমর্থকদের মারমুখি ভুমিকা দেখে চলে যাই জিলা স্কুল মোড়ে তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাউহিদুল ইসলাম ছাবিদ ও বিএম কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আলম তাদের দলবল নিয়ে দাড়িয়ে আছে। যেই যাচ্ছে দরপত্র জমা দিতে তাকেই বাধা এবং হুমকি দিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে। এটা দেখে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে যাই। কিন্তু সেখানেও দেখি একই অবস্থা। আর দায়িত্বরত পুলিশের ভূমিকাও ছিলো নিরব দর্শকের মত। একারনে সব ঠিকাদররাই দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।
জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমি কোন কাজ বাগাইনি। ভাবির জন্যই এখানে আসা। তবে দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে কোন হট্টগোল বা বাধা দানের অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন।
এদিকে একই সময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের সাড়ে ৫৮ লক্ষ টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা।
শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, গত ১০ মে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পুইয়াউটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার কে.বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মানের লক্ষে ২ গ্রুপের দরপত্র আহবান করা হয়। সে অনুযায় গতকাল বৃহস্পতিবার ছিলো দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের দুইটি কাজের বিপরীতে ২৬টি দরপত্র বিক্রি হলেও তা সমা দিতে পারেনি সাধারন ঠিকাদাররা। কাঠালিয়া উপজেলার কাজটিতে সবাই উন্মুক্ত ভাবে দরপত্র জমা দিতে পারলেও বাকেরগঞ্জের ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কাজের বিপরীতে সবাই দরপত্র জমা দিতে পারেনি। এখানে ৬টি দরপত্র জমা হলেও তার মধ্যে ৩টিই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের। বাকি তিনটি জমা হলেও তা ঠিকাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে প্রত্যাহার করিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দরপত্র বাগিয়ে নিতে নগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন না থাকলেও ছিলেন তার একঝাক টেন্ডারবাজ বাহিনী। তাদের বাধায় সাধারন ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ কররেও বাধা দেয়ার সাহস পায়নি কেউ।
তবে এই দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম কামরুল ইসরাম বলেন, কোন প্রকার অনিয়ম বা ঝামেলা ছারাই দরপত্র গ্রহন হয়েছে। এমনকি পুলিশের সহযোগিতায় বিকাল ৪টায় দরপত্র বাছাই হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।