সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এমপি আব্দুল্লাহর গৌরনদীকে জেলা, মহাসড়ক চার লেন ও ভোলার গ্যাসের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গৌরনদীকে জেলায় উল্পুীতকরণ, ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে সরবরাহ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরন এবং ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। গতকাল রোববার দশম জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, সাবেক চিফ হুইপ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এই নেতা ওই দাবি জানান। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেছেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ননা দেন।
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ফণিভূষন মজুমদারকে গৌরনদীকে জেলা ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। হাসানাত বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি চিফ হুইপ থাকাকালে জাতীয় সংসদে গৌরনদীকে জেলা করার দাবি জানিয়েছিলেন।
এমপি হাসানাত বলেন, প™§া সেতু চালু হলে রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের যাতায়াতের চাপ বাড়বে। তাই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
নদীমাতৃক উপকূলীয় অঞ্চল বরিশালে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। কিন্তু ভোলা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। এতে বরিশালে শিপ্ল-বানিজ্য আরো সমৃদ্ধ হবে। গৌরনদীতে একটি ৩৩ কেভি’র বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানান। সরকারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগৈলঝাড়ার পয়সার হাটে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে এমপি হাসানাত অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ৬৫ বছর অতিক্রমকারীদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছেন।
জাতীয় সংসদের বাজেট বক্তৃতায় আবুল হাসানাত বলেন, প্রধানমšúী শেখ হাসিনার সঠিক ও দহৃরদর্শী দিক-নির্দেশনায় বিগত ৬ বছরে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপল্পু হচ্ছে। জনগণ মুক্তি পেয়েছে লোডশেডিংয়ের দুঃসহ যšúণা থেকে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ভৌত অবকাঠামো, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সরকারের সাফল্য জনগণের জীবন মানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের বিশদ বর্ণনা করে হাসানাত বলেন, পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ এবং দশমিনায় এশিয়ার বৃহত্তম বীজ বর্ধন খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বরিশালে শহীদ আব্দুর রব টিচার ট্রেনিং কলেজ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন জনমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নই প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে অত্যন্ত দরদী ও আন্তরিক।
আবুল হাসানাত তার বাজেট বক্তৃতায় আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের যে সম্পদ নষ্ট করেছে এবং বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভাবনীয় কূটনৈতিক সফলতার জন্য মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পথে। আমরা ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের গঙ্গার পানি চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। সমুদ্রে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহণ চুক্তি সম্পদিত হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে দেশের যোগাযোগ, ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে বিপুল সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
আবুল হাসানাত এমপি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ৩ ব্রিটিশ নাগরিক যথাত্রক্রমে বঙ্গবন্ধুর নাতনী রেজওয়ানা সিদ্দিকী টিউলিপ, রুশনারা আলী এবং রূপা হককে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে এই তিন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তাব করে স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি অবশ্যই উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
অর্থমšúী আবুল মাল মুহিত ঘোষিত বাজেটকে জনবান্ধব এবং প্রশংসনীয় আখ্যা দিয়ে আবুল হাসানাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের ঘোষণা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। এমন জনবান্ধব ও গণমুখী বাজেট পেশ করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাসানাত বলেন, এ বছরই প্রথম বাজেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোন প্রতিক্রিয়া আমরা দেখিনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রতি ছিল। তাই সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহকে শক্তিশালী করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্প্রসারন করা হয়েছে। জেলা পরিষদেও নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।