সংরক্ষণ করা মা ইলিশে সয়লাব বাজার

রুবেল খান ॥ নিষেধাজ্ঞার কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে নগরীর বিভিন্ন বাজার ইলিশ মাছে ভরে গেছে। যার সিংহভাগ নিষিদ্ধ সময়ে শিকার করা। বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করা এসব মাছ ক্রয়ে স্থানীয়রা নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামসহ বাজারে ভীর করে।
সূত্রমতে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাগর এবং নদীতে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে সরকার। এ সময়ে ইলিশের প্রজনন মৌসুম বিধায় ইলিশ শিকারের পাশাপাশি বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়। যে কারনে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের সাগর এবং নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান পরিচালনা করে মৎস বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন। যে কারনে জেলেরা প্রকাশ্যে নদী কিংবা সাগরে ইলিশ শিকারে যেতে পারেনি। তবে কোন কোন স্থানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মা ইলিশ শিকার করে অসাধু জেলেরা। স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসিন দলের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের ছাত্রছায়ায় ইলিশ শিকার করে তা ফ্রিজ এবং লবন দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখে তারা। প্রশাসনের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে বাজার কিংবা আড়ৎ এ আনা হয়নি এসব ইলিশ। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই বরফ এবং লবন দিয়ে সংরক্ষিত ইলিশগুলো বাজারজাত করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই মা ইলিশ। এর প্রতিটির পেটেই রয়েছে ডিম। নিষিদ্ধ সময়ে এসব ইলিশের প্রজনন ঘটার পূর্বেই অসাধু জেলেদের জালে ধরা পড়ে ডিমওয়ালা ইলিশগুলো। যে কারনে সরকারের মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম কতটুকু সার্থক হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।
এদিকে গতকাল শনিবার সকালে নগরীর ইলিশ মোকাম পোর্ট রোডে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ আমদানির ভরপুর চিত্র। শত শত ট্রলারে মাছ আসছে পোর্ট রোডের আড়ৎ গুলোতে। সেখান থেকে আবার বরফ দেয়া অবস্থায় ককশিটে রফতানি করা হচ্ছে বরিশালের বাইরে ঢাকা সহ বিভিন্ন বিভাগে। এমনকি বরিশালের ইলিশ দেশের বাইরে রফতানি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন একাধিক আড়তদার। তাছাড়া বরিশালের বাজারগুলোতেও ডিমওয়ালা ইলিশ সহ সকল প্রকার ইলিশের ব্যাপক সমারহ ঘটেছে। দামে অনেকটা সস্তা হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিলো অনেক।
নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারী মৎস বিক্রেতা এবং ভাই ভাই মৎস আড়তের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন জানান, গতকাল ইলিশেল পাইকারী মূল্য অনেকটা কম ছিলো। এলসি (৬শ থেকে ৯শ গ্রাম) সাইজের প্রতিমন ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৯ হাজার টাকায়। মাঝারী সাইজ (৪শ থেকে ৫শ গ্রাম) ইলিশ প্রতিমন বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকা, ডাবল এম সাইজ (৩শ থেকে আড়াইশ গ্রাম) ইলিশ প্রতিমন বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার এবং ঝাকটা (৮/১০ টাকায় ১ কেজি) প্রতিমন বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকায়।
কামাল হোসেন জানান, গতকাল ইলিশের আমদানী ভালো ছিলো। যে কারনে মূল্য অনেক কম ছিলো। আগামী কয়েক দিনে ইলিশের মূল্য আরো কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিমওয়ালা মা ইলিশ বিক্রির বিষয়ে বলেন, অনেক ইলিশ রয়েছে যেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজনন ঘটাতে পারেনি। সে কারনে ঐসব মাছ এখন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। জেলেরা আমাদের যে ভাবে দিয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছি বলে মন্তব্য করেন এই মৎস ব্যবসায়ী।