সংঘাত ও সংঘর্ষের আশংকা নিয়ে জাপার পাল্টাপাল্টি সম্মেলন আজ

রুবেল খান॥ জাতীয় পার্টির (জাপা) বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী আজ। নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী পালনের ঘোষনায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । দুই গ্রুপের একটি মহানগর শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অপর পক্ষ জাপার তৃনমুলের নেতাকর্মিদের সম্মেলন নামে কর্মসূচী পালন করবে। উভয় গ্রুপের পক্ষ থেকে নগরীতে সাটানো পোষ্টারে কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে জাপা চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত জাপা চেয়ারম্যানের সরকারী সফরসুচিতে মহানগর শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। এই পক্ষের নেতা মহানগর কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর একেএম মর্তুজা আবেদীন দাবী করেন, চেয়ারম্যান তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একইভাবে অপর পক্ষের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহসিন-উল ইসলাম হাবুল বলেন, চেয়ারম্যান তাদের তৃনমুল কর্মী সমাবেশে যোগদান করবেন। পুলিশ বলছে, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উভয় পক্ষকে সাবধান করা হয়েছে।
দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন কমিটি থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, তৃনমুল নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরনে জাপার মহানগর শাখার সম্মেলন অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ-এমপি। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ বাবলু-এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ-এমপি এবং অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা-এমপি। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন জাপার উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ও জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এবং সাবেক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু। সভাপতিত্ব করবেন জাপা’র মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এ্যাড একেএম মুরতজা আবেদীন। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি সাপেক্ষে অশ্বিনী কুমার হলে সম্মেলন আয়োজন করেছি। এখানে কেউ বাঁধা বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তা পুলিশ প্রশাসন বুঝবে। কেননা কুকুর মানুষকে কামড়ালে সেই মানুষ কখনো কুকুরকে কামড়াতে পারে না।
নগরীর ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এই নেতা আরো বলেন, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সম্মেলনের জন্য আসছেন। আর ইতোমধ্যে তার দপ্তর থেকে প্রেরিত এক নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ালে তা পার্টির চেয়ারম্যান এবং পুরো পার্টিকেই অবমাননা করার শামিল। আর যারা এ কাজ করছে তারা পার্টির লোক এবং পার্টির ভালো চাইলে করত না। তারা অবশ্যই কোন একটি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য পাল্টা কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি মুরতজা আবেদিন।
তিনি জানান, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে গতকাল রোববার নগরীর উদ্দেশ্যে এমভি টিপু-৭ লঞ্চে ঢাকা ত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ অন্যান্য অতিথিরা। সকালে এসে পৌছানোর পর তারা সার্কিট হাউসে অবস্থান নেবেন। পরে সম্মেলনে যোগ দেবেন তারা।
এর পাল্টা কর্মসুচী দেয়া জাপার তৃনমুল নেতাকর্মীদের সমাবেশের আয়োজক কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল দাবি করেন, চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তৃনমুল কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে নগরীতে আসছেন।
তিনি বলেন, তৃনমুল নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে মহানগরের সম্মেলন আয়োজন করায় তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা ভিন্নভাবে তৃনমুল কর্মী সম্মেলন আয়োাজন করেছে। মহানগর দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অশ্বিনী কুমার হলের ভেতরে তাদের কর্মসুচী পালন করলে তারা হল চত্ত্বরে তৃনমুল কর্মী সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ হাবুল।
উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহম্মেদ পরিবর্তনকে জানান, জাতীয় পার্টির পাল্টা পাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে যে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে তা সামাল দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা আইন শৃঙ্খলার অবনতী না হয় জন্য ঊভয় পক্ষকে ডেকে সাবধান করা হয়েছে। সম্মেলন অনুমতি প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ শুধু মাত্র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। তাই তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে। এর বাইরে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
অপরদিকে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দু’গ্রুপের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তৃনমুল সম্মেলনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন জাতীয় পার্টির মহসিন উল ইসলাম হাবুল ও মীর জসিম উদ্দিন গ্রুপ। একইভাবে শনিবার বিকেলে পুলিশ কমিশনার তার কার্যালয়ে এনে উভয় সমঝোতা এবং শান্তিপূর্ণ সম্মেলন করার আহবান করেন। কিন্তু সেখানে মহসিন উল ইসলাম হাবুল এবং মীর জসিম উদ্দিন গ্রুপ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তাই পার্টির বিবাধমান দুটি গ্রুপের বড় ধরনের সংঘাত ও সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।