শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পারল না বাংলাদেশ

বিডিনিউজ ॥ শ্রীলঙ্কার দেওয়া বিশাল লক্ষ্য ইনিংসের শেষ পর্যন্ত তাড়া করে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩ ওভার বাকি থাকতে অলআউট হয়ে এই বিশ্বকাপে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে মাশরাফি-সাকিবরা। তিলকারতেœ দিলশান ও কুমার সাঙ্গাকারার শতকে ১ উইকেটে ৩৩২ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৪৭ ওভারে ২৪০ রানে অলআউট হয় যায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তাই ৯২ রানের বড় হারই মেনে নিতে হলো মাশরাফিদের। শ্রীলঙ্কার এত বড় সংগ্রহে অবদান ছিল ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের চরম ব্যর্থতাও। ‘জীবন’ পাওয়া দিলশান ও সাঙ্গাকারার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ১২ ওভারে ১২৮ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। ৩৬ ওভার শেষে দুই দলের রানই ছিল সমান, ১৮৬! কিন্তু শ্রীলঙ্কা হারিয়েছিল কেবল এক উইকেট আর বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে ছয়টি। বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুবিধা নিয়ে শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কা। হাতে উইকেট না থাকায় সে চেষ্টা আর করতে পারেনি বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় বলেই তামিম ইকবালকে হারায় তারা। লাসিথ মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে যান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা সৌম্য সরকার এনামুল হকের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। জায়গায় দাঁড়িয়ে শট খেলতে গিয়ে কুমার সাঙ্গাকারার গ্লোভসবন্দি হন তিনি। চার নম্বরে নামা মুমিনুল হক ভালো করতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে খেলতে গিয়ে স্লিপে মাহেলা জয়াবর্ধনের তালুবন্দি হন তিনি। ৪১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে এনামুল ও মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে। দুইবার জীবন পাওয়া এনামুলের রান আউটে ভাঙে তাদের ৪৩ রানের জুটি। দলের সংগ্রহ একশ’ রানে পৌঁছানোর পর বিদায় নেন মাহমুদুল্লাহও। ছয় নম্বরে নামা সাকিব ও সাত নম্বরে নামা মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়তায় ধাক্কা সামলে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন সাকিব। তবে অর্ধশতকের কাছাকাছি পৌঁছে তার বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৪৪ রানের আরেকটি সম্ভাবনাময় জুটি গড়ে ফিরেন মুশফিকও। সুরঙ্গা লাকমলের বল জায়গা করে নিয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পাওয়া সাব্বির দলকে আড়াইশ’ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান। ৫৩ রান করা সাব্বিরকে ফেরান মালিঙ্গা। পরের বলে তাসকিন আহমেদ এলবিডব্লিউ হলে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার মালিঙ্গা। এর আগে লাহিরু থিরিমান্নের সঙ্গে ১২২ রানের জুটিতে শ্রীলঙ্কাকে ভালো সূচনা এনে দেন দিলশান। প্রথম ওভারেই ভাঙতে পারতো এই জুটি। এনামুলের ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়নি। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে স্লিপে থিরিমান্নের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন তিনি। ব্যক্তিগত ২২ ও ৪৪ রানে আরো দুবার জীবন পান থিরিমান্নে। ৫২ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৭৮ বলের ইনিংসটি গড়া তিনটি চারে। ২৫তম ওভারে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন রুবেল হোসেন। তার বল স্লিপের ওপর দিয়ে তুলে দিতে গিয়ে থার্ডম্যানে তাসকিন আহমেদের হাতে জমা পড়েন থিরিমান্নে। নড়বড়ে থিরিমান্নের বিদায়ের পর দ্রুত রান তুলতে থাকে শ্রীলঙ্কা। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে ২১০ রানের জুটি গড়েন দিলশান-সাঙ্গাকারা। ২৫.৩ ওভার স্থায়ী জুটিতে ৮.২৩ গড়ে রান সংগ্রহ করেন এই দুই জনে। ক্যারিয়ার সেরা ১৬১ রানে অপরাজিত থাকেন দিলশান। ডান হাতি এই ব্যাটসম্যানের আগের সেরা ছিল অপরাজিত ১৬০ রান। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ৯ ইনিংসে এ নিয়ে চারটি শতক পেলেন তিনি। ২১তম ওয়ানডে শতক পাওয়া দিলশানের ১৪৬ বলের ইনিংসটি ২২টি চার সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি এখন দিলশানের। এই কৃতিত্ব ছিল অরবিন্দ ডি সিলভার অধিকারে। ১৯৯৬ এর আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ১৪৫ রান করেছিলেন তিনি। ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারা। চারশতম ওয়ানডে খেলতে নেমে ২২তম শতকে পৌঁছান তিনি। ৭৬ বলে খেলা তার আক্রমণাত্মক ইনিংসটি গড়া ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায়। ৭৩ বলে শতকে পৌঁছান সাঙ্গাকারা, এটি তার দ্রুততম শতক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩৩২/১ (থিরিমান্নে ৫২, দিলশান ১৬১*, সাঙ্গাকারা ১০৫*; রুবেল ১/৬২)
বাংলাদেশ: ৪৭ ওভারে ২৪০ (তামিম ০, এনামুল ২৯, সৌম্য ২৫, মুমিনুল ১, মাহমুদুল্লাহ ২৮, সাকিব ৪৬, মুশফিক ৩৬, সাব্বির ৫৩, মাশরাফি ৭, রুবেল ০*, তাসকিন ০; মালিঙ্গা ৩/৩৫, দিলশান ২/৩৫, লাকমাল ২/৪৯, থিসারা ১/৩৩, ম্যাথিউস ১/৩৬)
ম্যাচ সেরা: তিলকারতেœ দিলশান।