শ্রমিক হত্যার বিচার দাবীতে ইমারত শ্রমিকদের মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ইমারত নির্মান শ্রমিক আজাদ সিকদারের হত্যাকারী কবীরের ফাঁসির দাবীতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকরা। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে কয়েকটি অটোরিক্সা। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ নির্মান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আঃ জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন এবং অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোঃ খালেক সরদার, মোঃ সামসুল হক খান, সাধারন সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন মোল্লা, সহ-সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বিশ্বাস, সুমন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মোসলেম সিকদার, সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি বাবুল বিশ্বাস, শ্রমিক নেতা শাহ্ আলম হাওলাদার, জালাল আহম্মেদ, রহিম হাওলাদারসহ বিভিন্ন এলাকা ভিত্তিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসময় বক্তারা শ্রমিক আজাদ সিকদারের হত্যার সাথে জড়িত সকল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের জোর দাবি জানায়। মানববন্ধন কর্মসূচির এক পর্যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় বসে পড়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কয়েকশত নির্মান শ্রমিকের উপস্থিতিতে অবোরধ সৃষ্টির ফলে সদর রোড, কাটপট্টি, গীর্জ্জামহল্লা সড়কে ব্যাপক যানজাটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী এবং যানবাহন মালিকও শ্রমিকদের। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও। এক পর্যায় বিক্ষুব্ধরা অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়। এসময় রাস্তায় তারা কয়েকটি অটোরিক্সা ভাংচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধনে নিহত ইমারত রং শ্রমিক আজাদ সিকদারের বৃদ্ধ মা, দুই শিশু সন্তান সহ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, রূপাতলীতে বাড়ীর মালিকের মারধরের শিকার রং মিস্ত্রী মোঃ আজাদ হাওলাদার (২৮) শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান। আজাদ নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের ধানগবেষনা সড়কের কেরামত আলী হাওলাদারের ছেলে। সে নগরীর রূপাতলী সোনারগাও টেক্সটাইল মিল’র বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বাসিন্দা জুয়েলের মালিকানাধীন ভবনে রং এর কাজ করছিলো। গত ২৯ এপ্রিল আজাদ কাজে না আসায় মালিকের সাথে তর্কবিতর্ক হয়। ভবন মালিক জুয়েলের পক্ষ নিয়ে তার ভায়রা কবির হোসেন উত্তেজিত হয়ে আজাদকে মারধর করে। এক পর্যায় আজাদকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলে মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।