শ্রদ্ধা-ভালবাসায় প্রয়াত সাবেক মেয়র হিরনকে স্মরন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শওকত হোসেন হিরন আজও আছে মানুষের হৃদয়ে। একে একে তার মৃত্যুর পর তিনটি বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষের হৃদয়ের মাঝে আজও জায়গা করে রেখেছেন তিনি । গতকাল রোববার তার তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে তেমন চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পেশাজীবী থেকে শুরু করে সর্বস্থরের মানুষ অকৃতিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বরিশাল সিটির সাবেক সফল জননন্দিত মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন’র প্রতি। তার রুহের মাগফেরাত কামনায় সকাল থেকে দিন ব্যাপী কোরআন খানি, মিলাদ, দোয়া-মোনাজাত এবং কাঙ্গালী ভোজ সহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এমনকি সকাল থেকেই নগরীর মুসলিম গোরস্থানে নেমে আসে হিরন প্রেমিদের ঢল। দলমত নির্বিশেষে সকল ভেদাভেদ এবং মতবিরোধ ভুলে হিরনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে ভীড় করেছিলেন শত শত মানুষ।
এদিকে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সদর আসনের সাবেক এমপি ও জননন্দিত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন সংগঠন । মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দিন ভর দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কুরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে সকালে দলীয় কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয় কালোপতাকা। পরবর্তীতে বিকালে মুসলিম গোরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত শওকত হোসেন হিরন এর কবর জিয়ারত করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং হিরনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার সহধর্মীনি মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্য ও সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বাদ আসর সদর রোডস্থ সোহেল চত্ত্বরে শওকত হোসেন হিরন স্মরনে এবং তার রুহের মাগফেতার কামনায় অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত। এতে অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন জুয়েল, সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাত, পরিবারের পক্ষ থেকে একমাত্র পুত্র রাফসান সাজিদ হোসেন এবং মেয়ে জামাতা ব্যারিস্ট্রার মো. আশিকুর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ও শভাকাঙ্খীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে পরিবারের উদ্যোগে সকাল থেকে নগরীর আলেকান্দা খালেদাবাদ কলোনী এলাকাধীন হিরন পয়েন্টে শওকত হোসেন হিরন এর নিজ বাস ভবনে কোরআন তেলাওয়াত এবং খতমে কুরআন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পরিবারের পক্ষে বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং মসজিদে দোয়া-মোনাজাত ও তবারক বিতরন করা হয়েছে। এর পূর্বে মুসলিম গোরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন এর কবর জিয়ারত করেন তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় হিরনের সহধর্মীনি সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, একমাত্র পুত্র রাফসান সাজিদ হোসেন, কণ্যা রুশনী হোসেন তৃনা এবং মেয়ে জামাতা ব্যারিস্ট্রার মো. আশিকুর রহমান সহ অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে তারা মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে শওকত হোসেন হিরন এর করব জিয়ারত করেছেন তার ¯েœহধন্য মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এসময় তার সাথে মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা । জসিম নিজেই শওকত হোসেন হিরন এর কবর জিয়ারত শেষে দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর পরে কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাছাড়া জসিম উদ্দিন এর উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া মোনাজাত এবং কাঙ্গালী ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়াও শওকত হোসেন হিরন এর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের আয়োজনে নগরীর মুসলিম গোরস্থান সংলগ্ন মসজিদে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ওই মসজিদেই মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর বাইরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, প্লানেট ওয়ার্ড শিশু পার্ক, বরিশাল ক্লাব লিমিটেড, পোর্ট রোডের মৎস্য আড়ৎ, বেলভিউ মেডিকেল সার্ভিস এবং এ্যাপোলো সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন এর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কালোপতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারন এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র ছিলেন শওকত হোসেন হিরন। শুধু জননন্দিতই নয়, আধুনিক এবং সবুজ বরিশাল নগরীর রূপকারও ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র পদে পরাজয়ের পরে শওকত হোসেন হিরন ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদর আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এমপি থাকাবস্থাতেই ২০১৪ সালের ২২ মার্চ নগরীর বরিশাল ক্লাবে অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এভাবে দীর্ঘ ১৮ দিন তাকে বরিশাল, ঢাকা এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেখে সুস্থ করা চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটায় বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। অবশেষে ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল সকাল ৮টার রাজধানীর এ্যাপোলো হাসাপাতালে শওকত হোসেন হিরনকে মৃত ঘোষনা করেন সেখানকার চিকিৎসকরা।