শেয়ার ব্যবসায়ী হত্যার রহস্য উদ্ধারে বন্ধুর ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর আবাসিক হোটেল এরিনার পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে পড়ে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছে নিহত যুবকের ভাই।
রোববার গভীর রাতে নগরীর কাশিপুর ফিসারী রোডের হাসেম মঞ্জিলের বাসিন্দা মো. আফতাফ হোসেন সিকদারের ছেলে মো. ইমরান হোসেন সিকদার সুমন (৩৫)এরিনার পঞ্চম তলার ৫০৭ নং কক্ষের কাঁচ ভেঙ্গে নিচে পড়ে নিহত হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ ওই কক্ষ থেকে মদের বোতল, জুয়া খেলার দুই সেট তাস ও নগদ অর্থ উদ্ধার করে। এছাড়াও ওই কক্ষে নিহতের সাথে থাকা বন্ধু নগরীর বগুড়া রোডের মৃত আদম আলীর ছেলে রাজধানীর ধোলাইর পাড় এলাকার লৌহ ব্যবসায়ী শওকত হোসেনকে (৩৬) আটক করে।
কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করে ভাই আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ঈসা। মামলায় নামধারী শওকতকেসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৯ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেছে, আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাই সুমনকে নিয়ে হোটেল এরিনার কক্ষ ভাড়া নেয়। পরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কক্ষের কাঁচ ভেঙ্গে নিচে ফেলে দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছে, ভাই সুমন রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঝালকাঠিতে বন্ধুর বোনের বিয়েতে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। রাত ১০ টার দিকে সে স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে কল করে জানায় বন্ধুর বাসায় অবস্থান করবে। রাত তিনটার দিকে অজ্ঞাত এক লোক ও বিমানবন্দর থানার পুলিশ এসে ভাই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানায়। হাসপাতালে গিয়ে ভাইকে মৃত অবস্থায় পায়।
হোটেল এরিনার কর্তব্যরত কর্মচারী মো. মাহবুব জানায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সুমন বন্ধু শওকতকে নিয়ে এসে হোটেলের ৫০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেয়। পরে আরো ৭/৮ জন লোক ওই কক্ষে আসা যাওয়া করে। রাতে ওই কক্ষ থেকে উচ্চস্বরে তর্ক-বিতর্কের শব্দ পায়। রাত ১০ টার দিকে সকলে বের হয়। কিছুক্ষন পর তারা ফিরে আসে। রাত ১১ টার দিকে সুমন ও শওকত ছাড়া অন্যরা বের হয়।
গভীর রাতে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে নিচে পড়া অবস্থায় পুলিশের সহায়তায় সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন মারা যায়। এই ঘটনার পর পুলিশ একই কক্ষে অবস্থান করা বন্ধু শওকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে।
গতকাল মঙ্গলবার তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি শাখাওয়াত হোসেন। মহানগর বিচারক হাকিম মো. রফিকুল ইসলাম রিমান্ডের শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য রেখেছেন।
ওসি শখাওয়াত হোসেন জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে বন্ধু শওকত হত্যার রহস্য সম্পর্কে মুখ খোলেনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্যদের পরিচয় বের করা হয়েছে।
পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানায়, উভয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে শওকত অস্বাভাবিক অবস্থায় সুমনকে দেখতে পায়। এক পর্যায়ে অজানা ভয়ে আতংকিত সুমন কাঁচের উপর লাফিয়ে পড়ে। এতে কাঁচ ভেঙ্গে নিচে পড়ে সে। তবে শওকতের হাত কেটে রক্ত বের হওয়ার বিষয় সম্পর্কে কিছু বল পারেনি। হত্যার কারন ও রহস্য বের করা জন্য চেষ্টা করছেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।
দিনভর ওই কক্ষে অবস্থানকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।