শেবামেক ছাত্রী নিবাস ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা, বেড়েছে ছুটির মেয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের পুরাতন ছাত্রী নিবাসটি বসবাসে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম এক চিঠিতে ৫ম তলার ওই ভবনটি ব্যবহারে অনুপযোগী ঘোষণা করেন। যার ফলে সাড়ে ৪শ ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর শরনাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ছুটির মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে একাডেমি কাউন্সিলের জরুরী সভার মাধ্যমে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ৩ সপ্তাহের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পেরে এক সপ্তাহ ছুটি বর্ধিত করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ২১ মার্চ খুলতে পারে মেডিকেল কলেজ।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত ডিজাইন সার্কেল-১ এর সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান খান ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রী নিবাস পরিদর্শন করেন। পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বরিশালের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এক চিঠিতে তিনি জানান, ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই ৫ম তলা ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বারান্দার আরসিসি কলাম সমূহের রডে মরিচা ধরে গেছে। এ কারণে কনক্রিট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনের মূল পিলারের রডে মরিচা ধরেছে। ফলে এ অবস্থায় ভবনটি ব্যবহারে ঝুঁকি রয়েছে। তবে ঝুকিপূর্ণ কলাম সমুহ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে ভবনটিকে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব।
গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রেরিত এই চিঠি’র পরিপ্রেক্ষিতে বরিশালের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভবনটি মেরামতের জন্য এক কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার এত টাকা ছাড় দিচ্ছে না। তাই এ অবস্থায় ভবনটি দ্রুত সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে তোলা সম্ভব নয়।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগের চিঠি পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) একাডেমি কাউন্সিলের জরুরী সভা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সভায় আগামী ২১ মার্চ কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার আগে প্রায় সাড়ে ৪শত ছাত্রীর জন্য ইন্টার্নী ডাক্তার হোস্টেল (মহিলা), অধ্যক্ষের কার্যালয়, হাসপাতালের উপ-পরিচালকের জরাজীর্ণ ভবনে ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে ওই ভবন গুলোতে কয়েকশত ছাত্রীকে বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থার কোন সুরাহায় পৌঁছতে পারেনি একাডেমিক কাউন্সিল। তাই আগামী ১৫ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বরিশাল সফরে আসলে বিষয়টি তার কাছে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ ভাস্কর সাহা বলেন, দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। তাই ২১ মার্চ কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সব ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি বলেন তিনি।