শেবামেকে ৫ পাকিস্তানি সহ ৩৫ বিদেশি শিক্ষার্থীর তথ্য যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবামেক) অধ্যায়নরত পাঁচ পাকিস্তানি সহ ৩৫ বিদেশী শিক্ষার্থীর হালনাগাত তথ্য প্রেরন করা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। প্রতি মাসের শেষের দিকে বাধ্যতামুলক ভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রেরন করবেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম দফায় বিদেশীদের হালনাগাত তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেছেন তারা। এছাড়াও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হালানাগাত তথ্য দিচ্ছেন তারা। শুধু তথ্য সরবরাহই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত পাঁচ পাকিস্তানী সহ ৩৫ বিদেশী শিক্ষার্থীর গতিবিধি পর্যবেক্ষন করছেন কেলেজ কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শেবামেক কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি বিশেষ নজরদারির এই কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এর পূর্বে গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশালে হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই তাদের উপর তিক্ষ্ম নজর রাখা হচ্ছে। জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
শেবামেক এর প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর গত ২৯ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক অনুবিভাগের ৪২৬ স্মারকে একটি চিঠি আসে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব খান মো. নূরুল আমনি স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে শেবামেকে অধ্যায়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের হালনাদাগ তথ্য চাওয়া হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁর পাকিস্তানি সহ বিদেশী ৩৫ শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। এর পর থেকে প্রতি মাসের শেষ দিকে নিয়মিত ভাবে মন্ত্রণালয়কে বিদেশীদের বিষয়ে তথ্য পাঠাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শুধুমাত্র মন্ত্রণালয় থেকেই নয়, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর অনেকটা নড়েচড়ে বসেন পুলিশ প্রশাসন সহ সর্বস্থরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সে মোতাবেক বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, এসএসআই, ডিজিএফআই, র‌্যাব এর গোয়েন্দা সদস্য এবং সিটিএসবি’র সদস্যরা দফায় দফায় বিদেশী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে কলেজের নির্ভর যোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এর বাইরেও প্রতিনিয়ম আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের পাশাপাশি ৩৫ বিদেশী শিক্ষার্থী যে সব স্থানে আশা যাওয়া করছেন সেসব দিকে তিক্ষ্ম নজর রাখছেন।
মেডিকেল কলেজের ছাত্র শাখা সূত্রে জানাগেছে, এই চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে যে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছেন তার মধ্যে ৫ জন পাকিস্তানি। বাকি ৩১ জনের মধ্যে ১৪ জন ফিলিস্তিনি। বাকিরা ভারতের কাশমিরি, মালদিপ ও নেপালের নাগরিগ। তারা সবাই শেবামেক এর মঈনুল হায়দার ছাত্রাবাসের নিচ তলার কক্ষে থাকেন। একই হোস্টেলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরাও বসবাস করেন। মোট বিদেশী ছাত্র’র মধ্যে ৮জন মেয়ে। যারা ইতিপূর্বে ক্যাম্পাসের বাইরে মেডিকেল কলেজ লেনের একটি বাড়িতে মেস হিসেবে ভাড়া থাকত। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদেরকে ক্যাম্পাসের ভেতরে কলেজের নিজস্ত ছাত্রী নিবাসেই রাখা হচ্ছে।
ছাত্র শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে পাঁচজন পাকিস্তানি শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছেন তার মধ্যে সাজিদ রহমান, গোলাম মোস্তফা ও আলী রহমান নামে তিনজন ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি হয়েছেন। বাকি একজনের নাম ইকরা নাজিয়ার। সে ২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস.এম রুহুল আমিন এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার করনে কথা বলতে পারেননি। তবে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের উপ-কমিশনার (নগর বিশেষ শাখা) জাহাঙ্গীর মল্লিক এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পাকিস্তানি শিক্ষার্থীসহ বরিশালে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকদের দিকে তারা বিশেষ নজর রাখছেন। হেড কোয়াটার্স এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি মাসেই বিদেশী এই শিক্ষার্থীদের তথ্য হালনাগাত করছেন তারা। সেই সঙ্গে বিদেশী শিক্ষার্থী ও নাগরীকদের নিরাপত্তাও বিশ্চিত করা হচ্ছে।
শেবামেক এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে যে চিঠি এসেছিলো সেই চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিদেশী শিক্ষার্থীদের হালনাগাত তথ্য সংগ্রহ করে তা মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেছি। শুধু এ প্রতিবেদনই নয়, প্রতি মাসেই তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে হালনাগাত তথ্য প্রেরন করছেন তারা। এর পাশাপাশি বিদেশী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছে কিনা বা তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিসছে এবং কি করছে এসব বিষয়ে তারা খোঁজ রাখছেন বলেও জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।