শেবাচিম হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের বিশুদ্ধ খাবার পানির যত রকমের ভোগান্তি তা সব পোহাতে হয়। শিশুবিভাগে রোগীর স্বজন সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত আট দিন হাসপাতালে নিয়মিত আসা যাওয়া তার। রোগীর জন্য ঔষধ ও খাবার সরবরাহে যত কষ্ট না হয়। তারচেয়ে কয়েকগুন কষ্ট এবং বেগ পেতে হয় খাবার পানির জন্য। তার মতো এই অভিযোগ চিকিৎসাধীন আরো রোগী ও স্বজনদের। দক্ষিনের এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান গেটের বাম পাশে থাকা টিউবওয়েলটি নষ্ট পড়ে রয়েছে। এরপর ডানপাশের টিউবওয়েল সব সময় ভীড় থাকে। কারন এই কল দিয়ে পানি উঠে খুব সামান্য।
জরুরী বিভাগের সামনের টিউবওয়েলটিতে মটর বসিয়ে তা ব্যবহার করছে ষ্টাফ ক্যান্টিনের কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে সাধারনের পানি নেয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। হাসপাতালের পেছনে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের টিউবওয়েলটি চেপে পানি ওঠাতে গিয়ে আরো কষ্ট ও সময় লাগে। রোগীর স্বজনরা জানায়, হাসপাতালের পাইপ লাইনে যে পানি আসছে, তাতে পোকা থাকায় তা পানের অযোগ্য। তবে সে পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজটি করছেন তারা।
আর টিউবওয়েলে যে পরিমান পানি উঠছে তা থেকে সরবরাহ করতে গিয়ে বিরম্বনার শিকার হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি কতৃপক্ষের নজর না থাকায় টিউবওয়েলগুলো ব্যবহার হচ্ছে যেমন-তেমনভাবে। আবার হাসপাতাল কম্পাউন্ডে থাকা দোকানদারদের পানির প্রয়োজন হলে তারাও এগুলোকে ইচ্ছেমতো আটকে রাখছে।
গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী বিধান মজুমদার জানান, বছরে বছরে পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে, পাশাপাশি গরমের এই সময়টায় পানির স্তর আরো নীচে নেমে যায়। আর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব গভীর নলকুপ রয়েছে তার বেশিরভাগেরই হাউজিং করা নেই। তাই পানি ওঠাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ হাসপাতালে গড়ে ১ হাজার রোগী থাকলে প্রায় ৩ হাজার লোকের প্রতিদিন এখানে সমাগম ঘটে। এদের খাবার পানি সরবরাহ করতে গিয়ে চাপকল দুটির ওপরে বেশ চাপ পড়ে যায়। যার কারনে প্রতি পাঁচমাসে গড়ে এ দুটি মেরামত করতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনের দুটি টিউবওয়েল প্রতিনিয়ত তাদের মনিটরিং এ থাকছে। তবে হাউজিংসহ আরো ২ টি গভীর নলকূপ বসানো গেলে ভালো হতো। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়েরে কোন বাড়তি বরাদ্দ না থাকায় এ মূহুর্তে গভীর নলকুপ বসানোর কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
সাপ্লাইয়ের পানিতে ময়লা (পোকা) থাকার বিষয়ে তিনি জানান, এখন প্রচন্ড গরম থাকায় বড় রিজার্ভ ট্যাংকিটি পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে গরম কমলেই সেটি পরিষ্কার করা হবে।
অপরদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম জানান, পানির সমস্যরা বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাননি। তবে তিনি দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাষ্টারদের রোগীদের যাতে খাবার পানি সরবরাহে কোন কষ্ট না হয় সে লক্ষে চাপকল দুটির কার্যক্রম পরীক্ষা করে তাকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, পানির সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলে অবশ্যই গণপূর্ত বিভাগকে তা সমাধানের জন্য বলা হবে।