শেবাচিম হাসপাতালের নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল দুদকে

রুবেল খান॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে। দুর্নীতি নিয়ে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলা তদন্তে মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদেরকে। ইতোমধ্যে দুদক তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাদের তদন্তে পরিচালক, উপ-পরিচালক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়াও ফেঁসে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন শীর্ষ কর্তা।
সূত্রমতে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ পান মন্ত্রনালয় থেকে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্য’র তদন্ত কমিটি বরিশালে এসে সরেজমিনে তদন্ত করে নিয়োগ নিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপক প্রমাণ পান। আর তাই প্রাথমিকভাবে শাস্তি হিসেবে শেবাচিমের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালক ও মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের চলতি দায়িত্বে অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. শহীদুল ইসলাম ও দুর্নীতির বড় কর্তা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল জলিলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে চাকুরী পাওয়া ২২৬ জন তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম স্থাগিত ও বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শুধুমাত্র সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং চাকুরী পাওয়াদের কার্যক্রম ও বেতন ভাতা বন্ধ করেই থেমে নেই মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ। স্থায়ীভাবে শাস্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে আরো নানা মুখি পদক্ষেপ। যার মধ্যে অন্যতম বিষয় হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অবৈধভাবে চাকুরী পাওয়াদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং তা তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি আরো গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র কর্মকর্তারাই নয়, এর সাথে মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা এবং শেবাচিম হাসপাতালের অন্যকোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী জড়িত কিনা সে বিষয়ে তথ্য উৎঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে অনেক তথ্য তাদের হাতে এসে পৌছেছে বলেও জানান তিনি।
যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমান আরো বলেন, আমাদের তদন্ত ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনকে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র দুদক কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা তদন্ত কর্মক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। যতদিন পর্যন্ত মামলার বিষয়টি নিষ্পত্তি না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত নিয়োগ প্রাপ্ত ২২৬ জন কর্মচারীর কার্যক্রম ও বেতন ভাতা বন্ধের পাশাপাশি পরিচালক এবং উপ-পরিচালক সহ তিন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকবে। মামলায় অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়াদের স্থায়ীভাবে বরখাস্তের পাশাপাশি কার্যক্রম স্থগিত হওয়াদের নিয়োগ বাতিল এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, তাদের তদন্ত কর্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পরিচালক, উপ-পরিচালক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাসুদেব গাঙ্গলি, একজন উপ-সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক দুর্নীতির সাথে সক্ষ্যতার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টি আরো ভালো ভাবে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে কিছুদিন সময় লাগবে বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।