শেবাচিম হাসপাতালের জনবল নিয়োগ দুর্নীতিতে মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অতঃপর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগে নিয়োগ কমিটি এবং হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন বানারীপাড়া উপজেলার ব্রাক্ষ্মনকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল রহমান হাওলাদার ও মুলাদী উপজেলার চর পৈক্ষা গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান ফকিরের ছেলে মিলন। গতকাল রবিবার বরিশাল বিজ্ঞ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি গ্রহন শুনানির জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন বিচারক মো. আব্দুল হামিদ। এ মামলার কারনে দীর্ঘ বছর পর শুরু হওয়া শেবাচিম হাসপাতালের নিয়োগ কার্যক্রম পূণরায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
মামলার বিবাদীরা হলো- শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী নিয়োগ কমিটির সভাপতি, পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক, উপ-পরিচালক ডা. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, মেডিসিনি বিভাগের আর.পি এবং নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ডা. আল মামুন, সদস্য ডা. সমেরেন্দ্র সরকার, মিমি আক্তার, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব।
মামলার নথি সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেবাচিম হাসপাতালে ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেনীর ১৭২টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ হাজার ৩৬৫টি আবেদন করেন চাকুরী প্রত্যাশীরা।
সে অনুয়ায়ী চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল নিয়োগ পরিক্ষার জন্য সময় নির্ধারন করেন নিয়োগ কমিটি। এর পূর্বে হাসপাতালের তখনকার পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম এবং নিয়োগ কমিটি ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে যান। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করে ২৯ মে নির্ধারন করা হয়। কিন্তু ঐ তারিখেও হাসপাতালের পরিচালক এবং নিয়োগ কমিটির প্রধান ডা. কামরুল হাসান সেলিম ৪ হাজার প্রার্থীকে পরীক্ষার বিষয়ে অবগত না করে ঐ তারিখে লিখিত পরীক্ষার বাহানা করেন। কিন্তু এর পর ৩ মাসের বেশি সময় হলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি। এর পর বাদিরা বিভিন্ন সময় নিয়োগ কমিটির কাছে নতুন ভাবে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট বাদীদ্বয় নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষার অনুরোধ জানাতে গেলে বিবাদীরা তাদের হুমকি দেয়। আর তাই বাদীদ্বয় নিয়োগ পরীক্ষা পূনরায় গ্রহনের আবেদন জানিয়ে মামলাটি দায়ের করেন।