শেবাচিম চত্বরে বন বিভাগের গাছ কর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার নামে এবার হাসপাতাল চত্ত্বরের বন বিভাগের মূল্যবান গাছ কেটে ফেলেছে কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে এসব গাছ কেটে জ্বালানি কাঠ বানিয়েছে তারা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকাল থেকে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে সামাজিক বন বিভাগের লাগানো মেহেগুনি, শিশু, চাম্বল, কড়াই এবং কৃষ্ণচূড়া গাছের বিশেষ অংশ কেটে ফেলে কর্মচারীরা। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কালম এর নেতৃত্বে হাসপাতাল ভবনের সামনে এবং পিছন মিলিয়ে প্রায় ৩০টি গাছের বড় আকৃতির ডাল পালা কেটে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে সে সব ডালপালা ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কামাল, চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী কল্যান সমিতির সাবেক দুর্নীতিবাজ এবং একাধিক চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত আ. আজিজ পল্টন এবং চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারী আনিছ খান তা লাকুড়ি হিসেবে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কালম বলেন, পরিচালক স্যার রাস্তার পাশের সকল গাছের ডাল পালা কেটে দিতে বলেছে। এ কারনে আমি লোক দিয়ে ডাল পালা কেটে রাস্তা পরিস্কার করেছি। ছোট ছোট যেসব ডাল পালা রয়েছে সেগুলো আমি সহ অন্যান্য কর্মচারীরা লাকুরী হিসেবে নিয়েছি।
তবে তার এই বক্তব্যের দ্বিমত প্রকাশ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ডাল-পালা এবং পাতা ঝড়ে ফেলার অজুহাতে গাছের বড় আকৃতির ডালগুলো কেটে নেয়া হয়েছে। যা কাটতে হলে অবশ্যই বন বিভাগের অনুমতি এবং দরপত্র’র মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। তারা বলেন, ডাল পালার পাশাপাশি বড় আকৃতির যে ডাল কেটা হয়েছে সেগুলো লাকড়ির পরিবর্তে তা ভালো কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে বলেও জানান তারা।
জানতে চাইলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক বলেন, গাছের কিছু ছোট ছোট ডালপালা রাস্তার উপর হেলে পড়েছে। ঐসব ডাল পালা কেটে রাস্তা পরিস্কার করার জন্য ওয়ার্ড মাষ্টারকে বলা হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোন ডাল কাটা হয়েছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।