শেবাচিম কলেজের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে একাডেমিক কাউন্সিল। সোমবার রাত ১২ টার দিকে কলেজের জামিলুর রহমান ছাত্রাবাসের সামনে ছাত্রলীগের ইমরান ও সেতু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৮ জন আহত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরী সভা করে একাডেমিক কাউন্সিল। সভায় সার্জারীর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম সারফুজ্জামান রুবেলকে প্রধান এবং কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. এসএম সরোয়ারকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সেলিনা পারভীন, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সাইদুর রহমান, ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন ও ডা. মাহামুদ মোর্শেদ রানা। তারা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন কলেজ প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করবেন। শেবাচিম কলেজের উপাধাক্ষ্য ডা. মাকসেমুল হক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কলেজের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহএমপি ও সদর আসনে জেবুন্নেছা আফরোজ এমপির শরণাপন্ন হবেন। তাদের কাছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব রোধে সহায়তা চাওয়া হবে।
কলেজ সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগের মহানগর সভাপতি জসিমপন্থী হিসেবে সেতু এবং মঈন তুষারপন্থী হিসেবে ইমরান পরিচিত। দুই নেতার দ্বন্দ্ব শেবাচিম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারনে দুই গ্রুপের নেতারা কলেজ ক্যাম্পাসে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। বহিরাগতদের সহায়তা নিয়ে ইমরান ও সেতু গ্রুপ একে অপরের উপর হামলার চেষ্টা করে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবারের রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
একাংশের নেতা ও ৪২ তম ব্যাচের ছাত্র ইমরান জানান, তিনি বান্দ রোড থেকে রাতের খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পথে জামিলুর রহমান ছাত্রাবাসের সামনে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরেন। কিছু বুঝে ওঠার আগে যুবকরা তাকে চেপে ধরলে ধস্তাধস্তি হয়। তার চিৎকারে ছাত্রাবাস থেকে তার সমর্থকরা বেড়িয়ে আসে। এ সময় ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে ৭/৮ জন আহত হন। অজ্ঞাত বহিরাগত যুবকরা পালিয়ে যায়। সেতু সমর্থিত গ্রুপের কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রাফি জানান, বিষয়টি একই ব্যাচের ছাত্রদের মধ্যে ঘটেছে। উভয় পক্ষ থেকে কলেজ কতৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সমাধান করবেন।
ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক প্রিন্স মজুমদার জানান, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ রোধে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।