শেবাচিমে সহ¯্রাধিক রোগীর তিন দিন কেটেছে চিকিৎসক-নার্স শূণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চিকিৎসক-নার্স শূণ্য শেবাচিম হাসপাতালে ঈদের তিন দিন কাটলো সহ¯্রাধিক রোগীর। শান্তনা হিসেবে নামে মাত্র কোড়মা পোলাউ খেতে পেলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি কেউ। আর এজন্য ঐ তিন দিনে চিকিৎসা সেবার অভাবে হাসপাতাল ছেড়েছে বহু রোগী। এমনকি চিকিৎসা অবহেলায় পাওয়া গেছে মৃত্যুর অভিযোগও।
এদিকে ঈদের পূর্বের দিন ১৭ জুলাই থেকে গতকাল ২০ জুলাই বিকাল পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত্ত এবং সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে দুর্ঘটনা সহ অপমৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। তবে মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগ লাশের স্বজনরাই হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স শূণ্যতার পাশাপাশি অবহেলার অভিযোগ করেছেন। তবে তাদের এ অভিযোগ অযৌক্তিক বলে দাবী করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সূত্রমতে, গত ১৮ জুলাই পালিত হয় পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এ উপলক্ষে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রায় ৬শ চিকিৎসক ও নার্স এর ছুটি দিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীক সহ¯্রাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবার জন্য রাখা হয় শিক্ষানবিশ সহ মাত্র ৫১ জন চিকিৎসক ও ১৫০ জন নার্স। কিন্তু বাস্তবে ৫১ জন চিকিৎসকও দায়িত্ব পালন করেননি বলে অভিযোগ করেছেন রোগী এবং তাদের স্বজনরা। এমনকি নার্সরাও তিনটি দিন কাটিয়েছে পুরো ফ্রি স্টাইলে।
রোগীরা বলেন, ঈদের পূর্বের দিন থেকেই হাসপাতাল চিকিৎসক ও নার্স শূণ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের প্রয়োজনে একাধিক খোঁজা খুজির পরেও চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। আবার প্রতিটি ওয়ার্ডে নামে মাত্র একজন করে নার্স থাকলেও বাকিরা ঈদ আনন্দে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিশেষ করে ঈদের দিন এবং এর পরের দিনের অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে পড়ে। এ দুদিন চিকিৎসকদের খোঁজতে গেলেই তাদের কক্ষে দেখা গেছে বিশাল তালা ঝুলছে। ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা বাইরে সময় ব্যয় কর্মস্থলে আসলেও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের ছিলো না খোঁজ।
তারা বলেন, ঈদের দিন সকালে তাদের ডিমের কোড়মা, মুরগির মাংস এবং পোলাউ খেতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাও নামে মাত্র। পথ্য বিভাগ থেকে খাবার সরবরাহের পর ওয়ার্ডের আয়া-বুয়ারা তা ভাগ বাটোয়ারা করে নিজের ঘরে নিয়ে গেছে। যে কারনে তাদের ভাগ্যে জুটেছে কোড়মা আর মুরগির মাংসের ঝোল। একদিকে চিকিৎসক নার্স শূণ্য অন্যদিকে খাবার নিয়ে চরম অনিয়ম হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছিলোনা কোন খোঁজ খবর।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ১৭ জুলাই থেকে গতকাল ঈদের তৃতীয় দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে ২৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এবার ঈদের মৃত্যুর সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম বলে জানাগেছে। এর মধ্যে ১৭ জুলাই ১০ জন, ১৮ জুলাই ৬ জন, ১৯ জুলাই ৯ জন এবং গতকাল ২০ জুলাই বিকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার ও ওয়ার্ড মাস্টার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যাদের মৃত্যু হয়েছে তার মেধ্য সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন, বিষপানে আত্মহত্যা করেছে ২ জন এবং পানিতে ডুবে ৪ জনের নির্মম ভাবে মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় এবং পানিতে ডোবা এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়াদের ১৩টি লাশের সজনরা অভিযোগ করেন চিকিৎসা অবহেলার। তাদের অভিযোগ চিকিৎসক শূণ্যতার কারনে হাসপাতালে চিকিৎসক খুজে পাওয়া যায়নি। আর সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দিতে পারায় তাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ভিত্তিহিন দাবী করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঈদের তিন দিনে যে সংখ্যক রোগী মারা গেছে তা তুলনা মুলক কম। কারন অন্যান্য দিনে বৃহত্তর এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১২/১৩ জন রোগীর মৃত্যু হচ্চে। বর্তমানে রোগী একটু কম থাকার পাশাপাশি অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ঈদে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম বলে দাবী তাদের। তারা বলেন, ঈদের মধ্যে কেউ বেশি অসুস্থ না হলে হাসপাতালে আসেনা। যারা মূমুর্ষ অবস্থায় আসছে তাদেরই মৃত্যু বেশি হচ্ছে। এর জন্য কোন চিকিৎসক বা নার্স দায়ি নন। তবে কোন প্রকার ছুটি ছাড়া কোন চিকিৎসক বা নার্স কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক।