শেবাচিমে লাশ নিয়ে ধুম্রজাল !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি মরদেহ নিয়ে দিনভর নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ মর্গে’র হিমাগারে লুকিয়ে রাখার পর তার পরিচয় জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রমানপত্রে নাম শাহিনুর (৪৫) ও বাবার নাম মৃত ফারুক হায়দার লেখা রয়েছে। তার ঠিকানা হিসেবে শুধুমাত্র রূপাতলী লেখা রয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। তবে কারা তাকে নিয়ে এসেছে তাদের পরিচয় জানেন না বলে দাবী করেন রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এবং ব্রাদারগন। জরুরী বিভাগের ভর্তি রেজিষ্ট্রার খাতায় ৩৬২১২/৩৯৯ শাহিনুরের রেজিষ্ট্রারে বাবার নাম
উল্লেখ ছিল না। শুধুমাত্র রূপাতলী, সদর, বরিশাল লেখা রয়েছে। তার উপরে প্রযন্তে (অভিভাবক) হিসেবে কোন একটি শব্দ লেখা হলেও পরে তা কলমের কালি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের সিসিইউতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাত ১টা ৩২ মিনিটে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিনুর’র মৃত্যু হয়েছে। পরে ভাই পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি মৃতদেহ নিয়ে গেছেন। ভাই পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মৃত্যুর প্রমানপত্র ও লাশ গ্রহনের সময় ০১৯৯৫৪৭৪৪৮৩ মোবাইল নম্বর দিয়েছে। কিন্তু নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ জানান, শাহিনুর নামে কোন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে তার জানা নেই। আর স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া লাশ ওয়ার্ড মাষ্টার কার্যালয়ে আসে না বলে দাবী করেন তিনি। কিন্তু পরে শাহিনুর নামে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে সে। তিনি বলেন, ওই নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর প্রমানপত্র সকালে তার হাতে এসে পৌছেছে। তবে সেটা স্বাভাবিক মৃত্যু। ছাড়পত্রটিতে দেখা গেছে সিসিইউতে ভর্তি রেজিঃ নম্বর ৩৬২১২/৩৯৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৩৪৪ উল্লেখ রয়েছে। তার উপরে ৬৩০ নম্বর লেখা রয়েছে। এছাড়া বাবা ও ঠিকানা ছাড়াও মৃত্যুর প্রমান পত্রে মৃত ব্যক্তির ধর্ম- ইসলাম, পেশা শ্রমিক এবং মৃত্যুর সময় রাত সাড়ে ৩টা উল্লেখ রয়েছে। মৃত্যুর কারন হিসেবে ইংরেজিতে “ইউএ উইথ কার্ডিওজেনিস শক” উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক। পরবর্তীতে ওয়ার্ড মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালের বহিরাগত কর্মচারী আলমগীর ভোরে লাশটি মর্গের হিমাগার (ফ্রিজ) রেখে এসেছে। মৃত ব্যক্তির স্বজনদের অনুরোধেই লাশটি হিমাগারে রাখা হয় বলে দাবী জানান তিনি। তবে স্বজনদের কারোর পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি। এমনকি বিকাল পর্যন্ত মর্গে কিংবা হাসপাতালে লাশের কোন স্বজনদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।