শেবাচিমে রোগীর স্বজনদের ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নার্সের চিকিৎসা সেবায় অবহেলা ও স্বজনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাংচুর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনরা এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটান। পরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, গত ৯ এপ্রিল ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন’র স্ত্রী সামসুন্নাহার বেগমকে (৩২) শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৩ এর অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহার অধীনে ভর্তি করা হয়।
সামসুন্নাহারের ছেলে আলিম জানান, তার মাকে ওয়ার্ডে আনার পরে চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান করেন। সে অনুযায়ী গতকাল দুপুরে তার মায়ের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করার জন্য নির্দেশ দেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক। কিন্তু ইনজেকশন পুশ করার সময় অতিবাহিত হলেও ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ২টার দিকে আলিম দায়িত্বরত স্টাফ নার্স রিতা রানি মন্ডলকে ইনজেকশন পুশ করার জন্য ডাকেন। কিন্তু তিনি কাজের অজুহাত দেখিয়ে আলিমকে পাঠিয়ে দেন। দফায় দফায় ওই নার্সকে ডাকা হলেও তিনি রোগীর ছেলের ডাকে সাড়া দেননি।
আলিম অভিযোগ করেন, বিকালে স্টাফ নার্স রিতা রানি মন্ডলকে পূনরায় ডাকতে গেলে তিনি ইনজেকশন পুশ করার জন্য টাকা দাবী করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় নার্স রিতা রানি মন্ডল তাকে ধাক্কা দিয়ে সেবিকা কক্ষ থেকে বের করে দেয়। এতে আলিমের পা কেটে যায়।
এক পর্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে আলিম তার অন্যান্য স্বজনদের নিয়ে নার্স রিতার উপর হামলার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে সেবিকা কক্ষের কাচের গ্লাস ভাংচুর করে। এসময় নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নামজুল সহ তার সঙ্গিয় ফোর্স চতুর্থ তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযাগ না দেয়ায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত স্টাফ নার্স রিতা রানি মন্ডল বলেন, তাদের ওয়ার্ডে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২৭ জন রোগী ভর্তি ছিলো। এদের সেবা প্রদানের জন্য মাত্র ৩জন নার্সকে দায়িত্বে ছিলো। এই কজন নার্স দিয়ে এতো রোগীর সেবা দিতে একটু বিলম্ব হতেই পারে। তাছাড়া রোগীর স্বজনের কাছে ইনজেকশন পুশ করার জন্য কোন টাকা চাননি বলেও দাবী করেন তিনি।