শেবাচিমে রাতের জরুরী বিভাগে জমজমাট ভর্তি বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এখনো চলছে অনিয়ম। রাত হলেই জরুরী বিভাগ পরিণত হয় দায়িত্বরত ব্রাদার ও কর্মচারীদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। এসময় একটি রোগী ভর্তি হলে তাকে গুণতে হচ্ছে সর্বনি¤œ একশ থেকে ৫শ টাকা।
এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে গত রবিবার রাতে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতে জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা দুই ব্রাদারকে ভৎসনাও করেছেন জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আইনী সহায়তার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হতে আসে ফজিলা বেগম (৪৫) নামের এক নারী। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব সজলগাথি গ্রামের শাহ- আলম মোল্লার স্ত্রী।
এদিকে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ফজিলাকে ওসিসিতে ভর্তি লিখে দেন। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টিকেট কাউন্টারে গেলে সেখানে দায়িত্বরত নার্স (ব্রাদার) আব্দুল কাদের খান ও ইলিয়াস হোসেন রোগীনিকে ওসিসিতে ভর্তি করার জন্য ৫শ টাকা দাবী করে। এ টাকা না দেয়ায় তাদের ওসিসিতে ভর্তি করা হয় না। ফিরিয়ে দেয়া হয় রোগীনিকে।
পরবর্তীতে ঐ রোগীনি বিষয়টি ওসিসিতে গিয়ে জানান। তখন ওসিসি’র এক কর্মচারী তাকে ভর্তি করাতে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে। তখন কাদের খান ও ইলিয়াস ওসিসি’র ওই কর্মচারীর সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পরেন। একপর্যায় সরকার নির্ধারিত ২৬ টাকার পরিবর্তে একশ টাকা ভর্তি ফি রেখে রেখে ওসিসিতে ভর্তি করে দেয়া হয় ফজিলাকে।
বিষয়টি গতকাল সকালে ওসিসি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কো-অর্ডিনেটর ডা. মজিবর রহমানকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি জরুরী বিভাগের কো-অর্ডিনেটর অর্থপেডিক্স বহি:র্বিভাগের আবাসীক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফেরদৌসকে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে ডাঃ ফেরদৌস জরুরী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কৃষ্ণ, অভিযোক্ত ব্রাদার কাদের ও ইলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের ভৎসনা করা হয়। এক পর্যায় ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পায় ঐ দুই নার্স।
এঘটনা ছাড়াও আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে জরুরী বিভাগের নার্সদের বিরুদ্ধে। হাতে গোনা দু-একজন বাদে বাকিরা রাতে জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালনের নামে বাণিজ্যালয়ে পরিণত করেন। বিভাগের চিকিৎসক ঘুমিয়ে রাত কাটানোর সুবাদে চিকিৎসক বনে যান নার্সরা। সেই সুযোগে জরুরী বিভাগে ভর্তি হতে আসা রোগীদের জিম্মি করে শত শত টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। বিশেষ করে মারামারি আর বিষপান করা কোন রোগী আসলেই পোয়াবারো হয়ে যায় তাদের। ওয়াশ দেয়ার নামে তারা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় রোগীদের কাছ থেকে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে অবৈধ ভাবে সেলামি আদায়ের মিশন জমিয়ে তোলেন ট্রলি চালক কর্মচারীরাও। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগিরা।