শেবাচিমে মায়ের কোল থেকে নবজাতক ছিনতাই’র দুই ঘন্টা পর উদ্ধার ॥ আটক-২

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে মায়ের কোল থেকে নবজাতক ছিনতাই’র ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টার মাথায় ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম এর মাধ্যমে উদ্ধার করা হয় নবজাতককে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় প্রসূতী বিভাগে নবজাতকের মাকে মারধর করে এই ছিনতাই’র ঘটনা ঘটে। ওই নবজাতক নগরীর ভাটিখানা জোর মসজিদ এলাকার বাসিন্দা নওমসুলিম জীবন খান ও ফারজানা দম্পতির সন্তান।
এদিকে ছিনতাই’র ঘটনার সাথে হাসপাতালের নবজাতকের নানী এবং খালা ও খালুর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারাই নবজাতককে ছিনতাই করে বিক্রির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ তার মায়ের। শুধু তাই নয়, নবজাতক ছিনতাই’র নেপথ্যে ওয়ার্ড মাষ্টার কালাম রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নবজাতক এর নানী ফাতেমা বেগম ও খালা নুপুর বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নবজাতকের মা ফারজানা পারভীন জানান, গত ৩ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে নওমুসলিম জীবন খান এর সাথে তার বিয়ে হয়। এর পূর্বে প্রেমের কারনে ধর্মান্তরিত হয় সাবেক গোপাল নামের যুবক জীবন খান। বিয়ের পর থেকে জীবন হিজলায় থাকে দোকানে চাকুরী করে আসছে। আর ফারজানা পারভীন ভাটিখানায় মায়ের কাছে থাকতো। ফারজানা অভিযোগ, তাদের বিয়ে পরিবার মেনে নিতে পারছিলো না। এজন্য তাদের মধ্যে ছাড়া ছাড়ি এমনকি অনাগত সন্তান নষ্ট করার জন্যও একাধিকবার চেষ্টা করে ফারজানার মা এবং বোনেরা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ আগস্ট ফারজানাকে শেবাচিম হাসপাতালের প্রসুতী বিভাগে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার রাতে শেবাচিম হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে তার কণ্যা সন্তান জন্মায়। কণ্যা জন্মাবার পর থেকেই তার মা ফাতেমা বেগম, বোন নদী, আকলিমা, নূপুর, লিলি এবং আকলিমার স্বামী সুমন নবজাতককে বিক্রি করে দেয়ার জন্য বলে। এতে রাজি না হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা ফাতেমা, বোন নদী, লিলি এবং আকলিমা ফারজানা পারভিনকে মারধর করে তার নবজাতককে ছিনতাই করে। এ নিয়ে হাসপাতাল জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নজরুল সহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যান। পরে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম এর কথা মত কোন এক বাড়িতে গিয়ে নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে ফারজানার বোন নূপুর। এ কারনে ছিনতাই ঘটনার সাথে ওয়ার্ড মাস্টার কালাম এর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানাগেছে, ফারজানা পারভিন শেবাচিম হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে পোষ্টা অপারেটিভ ইউনিটে চাকুরী করে। তার বোন নদী বার্ণ ইউনিটে, অপর বোন আকলিমার স্বামী সুমন আইসিইউতে চাকুরী করেন। এছাড়া লিলিও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চাকুরী করতো। ওই ওয়ার্ড থেকে চোরাই ওষুধ উদ্ধারের পর থেকেই সে পালাতক ছিলো। একই পরিবারের বোনদের ও জামাতাকে এই হাসপাতালে চুক্তি ভিত্তিক আয়া পদে চাকুরী দেন ওয়ার্ড মাস্টার কালাম। অভিযোগ অস্বীকার করে কালাম বলেন, কর্মচারীরা আমার পরিচিত। তাই ওদের সাথে কথা বলেই শিশুর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং নুপুরকে সেখানে পাঠিয়ে নবাজতকে উদ্ধার করেন।