শেবাচিমে ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে আইসিইউ সেবা

রুবেল খান॥ শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বছরের মধ্যে আইসিইউ সেবা দিতে চার সদস্য বিশিষ্ট বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ সেবা ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োগ করা চিকিৎসক ও সেবিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষন দিচ্ছে শেবাচিম কতৃপক্ষ। আইসিইউ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সারফুজ্জামান রুবেল আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্রমতে, বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে এনজিওগ্রামসহ চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। ওই সব যন্ত্রপাতির ব্যবহারে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু হাসপাতালে আইসিইউ’র অভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারেও পূর্নতা পায়নি।
মৃত্যুর শেষ মুহুর্তের চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে শেবাচিম হাসপাতালে আইসিইউ চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা হয়। আন্দোলনের সুফল হিসেবে শেবাচিম হাসপাতালের পূর্ব পাশে নির্ধারিত দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় আইসিইউ কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সাবেক ও বর্তমান দুই মন্ত্রী বরিশালে সফরে এসে আইসিইউ দ্রুত চালু করতে নির্দেশ দেন।
শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারনে আইসিইউ কার্যক্রম মুখথুবরে পড়ে। তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক দায়িত্ব নিয়ে আইসিইউ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেয়। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দিক নির্দেশণা মেনে আইসিইউ চালুর জন্য চার সদস্যের বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছেন। সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সারফুজ্জামান রুবেলকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্যরা হলো- কার্ডিওলজী বিভাগের প্রধান ডা. হুমায়ুন কবির, রেসপেরটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান সিদ্দিকুর রহমান এবং ডা. শফিকুল ইসলাম। আইসিইউ চালু করাসহ রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করনে দায়িত্ব পালন করবেন তারা।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক বলেন, আইসিইউ চালু হলে উপকৃত হবে সাধারন মানুষ। অনেক অসহায় রোগী অর্থাভাবে ঢাকায় গিয়ে আইসিইউ সেবা নিতে পারে না। আবার ঢাকায় নেয়ার পথেই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এমন অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে আইসিইউ জরুরী হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত এ সেবা চালু করা হবে।
তিনি বলেন, আইসিইউ কার্যক্রম চালু করতে যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তা আমাদের রয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি সরবরাহ ছাড়াও বেশ কিছু মালামাল সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর্স থেকে আনা হয়েছে। তাই আইসিইউ সেবা চালু এখন সময় ব্যাপার মাত্র।
আইসিইউ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ডা. সারুফুজ্জামান রুবেল বলেন, ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করতে ইতোমধ্যে নির্ধারিত আইসিইউ ভবন উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ভবনের নিচ তলায় ১০টি শয্যা, রোগীর পর্যবেক্ষন মনিটর, রোগীর পর্যবেক্ষনের কেন্দ্রীয় মনিটর, ১০টি ভেন্টিলেটর সহ উন্নত এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। তবে কিছু ফার্নিচারের প্রয়োজন রয়েছে। তা সরবরাহের জন্য মন্ত্রনালয়ে অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে পত্র দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আইসিইউতে একজন কনসালটেন্ড বাধ্যতামুলক। এছাড়াও অন্যান্য চিকিৎসক ও সেবক-সেবিকার প্রয়োজন রয়েছে। এই জনবল সমস্যা সমাধানে মন্ত্রনালয় থেকে কোন নির্দেশনা দেয়নি। তবুও আইসিইউ চালু করতে হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ চালুর পর রোগীর চিকিৎসা সেবা এবং পূর্বে সর্ববিষয়ে তদারকির জন্য তাকে কনসালটেন্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আরো তিন জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক ডা. সারফুজ্জামান রুবেল বলেন, রোগীদের আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। সপ্তাহের সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ১২ জন নার্স এবং সার্জারী, মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিষ্ট্রার, মেডিকেল অফিসার এবং এ্যানেথেসিও বিভাগের শিক্ষনবিশ চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। যে কোম্পানি থেকে আইসিইউ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে সেখানকার বিশেষজ্ঞরা যন্ত্রপাতি পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ শেষে আগামী এক মাসের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাংখিত আইসিইউ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।