শেবাচিমে চিকিৎসকের উপর হামলা ॥ আটক-১

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ এবার রোগীর স্বজনদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সাইফুল আজম নামের এক চিকিৎসক। গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারে এই ঘটনায় রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হাসপাতাল জুড়ে ছিল উত্তেজনা। এসময় পুলিশের সামনে এক হামলাকারীকে ধরে এনে কক্ষে মধ্যে আটকে বেধড়ক মারধর করেন ইন্টার্নি চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজ ছাত্ররা। বাঁধা দিতে গেলে পুলিশ, ইন্টার্নি এবং ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারী তৌহিদ নামের একজনকে আটক করে থানা পুলিশ।
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ইন্টার্নি ডক্টর্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ মোঃ রাজু আহমেদ জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ সরদার নামের এক ব্যক্তিকে সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়। ক্ষত স্থানে অস্ত্র পচারের জন্য তাকে পঞ্চম তলায় অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। এসময় রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে ভীর জমায়। তাদের বাইরে যেতে বললেও স্বজনরা খামখেয়ালী করে ভেতরে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটায়। কিছুক্ষন পরে ওটি কমপ্লেক্সের মধ্যে চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে থাকা মোবাইল সেট ও টাকার ব্যাগ না পেয়ে সার্জারী ইউনিট-৩ এর রেজিষ্ট্রার ডা. সাইফুল আজমকে অবহিত করে শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, ওই চিকিৎসক অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে চুরির ঘটনার দায়ভার তার উপর বর্তায়। তখন রোগীর স্বজনদের পুনরায় ওটি কমপ্লেক্স থেকে বের হতে অনুরোধ জানালে ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক চৌধুরীর উসকানিতে চিকিৎসককে উদ্দেশ্যে করে আজে বাজে মন্তব্য করে স্বজনরা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় উৎশৃঙ্খল স্বজনরা রেজিষ্ট্রার ডা. সাইফুল আজমকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। ঘটনাটি হাসপাতালের ইন্টার্নি এবং মেডিকের কলেজ ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা হাসপাতালে ঘটনাস্থলে ভীর জমালে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খবর পেয়ে থানা পুলিশের ওসি সহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের সামনেই ইন্টার্নি এবং মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তৌহিদ সহ দু’জনকে ধরে এনে রেজিষ্ট্রারের কক্ষের মধ্যে আটকে নির্যাতন করে। এর কিছুক্ষন পরে ওসি’র নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলে পুলিশের উপরেও চরাও হয় ইন্টার্নি এবং ছাত্রলীগ। এতে করে গোটা হাসপাতারে রোগীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এবং পুলিশ কর্মকর্তারা ইন্টার্নি ও ছাত্রদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে।
লাঞ্ছিত হওয়া রেজিষ্ট্রার ডা. সাইফুল আজম বলেন, তাকে লাঞ্ছিত করার খবর পেলে ইন্টার্নি এবং মেডিকের কলেজ ছাত্রদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এজন্য তারা তৌহিদ এবং শামীম নামে দু’জনকে ধরে এনে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদ করে। তকে কাউকে মারধর করা হয়নি। রবং তাদের মধ্যে একজনকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তৌহিদকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বে থাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফরহাদ সরদার বলেন, সরকারি কাজে বাধা ও চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৌহিদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধরা রোগীর স্বজনদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। যে কারনে তাদের অভিযোগ থাকলে তাও গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ, গত সোমবার রাত ৮ টার দিকে সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের মেম্বার জামাল সরদার (৩৫) ও তার দুই ভাই জাহিদ সরদার (৩০), আলামিন সরদার (২৫) কে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক জাহিদ সরদারের শরীরে অস্ত্রপচার করতে লাঞ্ছিত হন চিকিৎসক।