শেবাচিমে ওষুধ পাচারের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন সেবিকা-কর্মচারীই নয় স্টোরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পাচারের সাথে জড়িত ॥ আরো একটি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শেবাচিম হাসপাতালের সরকারি ওষুধ পাঁচারের সাথে শুধু নার্স আর কর্মচারীরাই নয়, এর সাথে মেডিসিন সাব সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনার সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্পৃক্ত থাকার বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গতকাল সোমবার পরিচালক এর কাছে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটিই উল্লেখ করেছেন কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল কাদির। তার দেয়া প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই আইনী সহযোগীতার জন্য হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল দুপুরের দিকে কোতয়ালী মডেল থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলাটিতে শুধুমাত্র মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে অবৈধ ভাবে ওষুধ জমিয়ে রাখার অভিযোগে আটক হওয়া ইনচার্জ বিলকিস জাহান ও অফিস সহায়ক শেফালী বেগমকেই শুধুমাত্র আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ওষুধ ইন্ডেন্ট ও বন্টনের হিসাব নিরীক্ষার জন্য করা তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ৬ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ওষুধ পাঁচারের সাথে শুধুমাত্র সেবিকা ও কর্মচারীরাই জড়িত নয়, এর সাথে সাব স্টোরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জড়িত থাকতে পারে। তাছাড়া ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের গাফিলতিও রয়েছে বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে। আর তাই বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের সাথে সাথে আইনী তদন্তের প্রয়োজন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ এবং পরামর্শ করা হয়েছে। এজন্যই তিনি বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। পরিচালক বলেন, শেফালীর ছেলে আমাদের স্টাফ নয়। তবে সম্প্রতি হাসপাতালে স্থগিত হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে মামুন এর চাকরী হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেনি। এসব কারনে মামুনকে ওই মামলায় আসামী করা হয়নি। অবশ্য তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে হাসপাতালের মেডিসিন সাব সেন্টার ও স্টোরের কেউ পাচারের সাথে জড়িত থাকলে, তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সাব সেন্টার এবং স্টোরের কেউ জড়িত না থাকলে বিপুল পরিমান ওষুধ জমা করা সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন পরিচালক।
তিনি আরো বলেন, রোগীদের জন্য ওষুধ ইন্ডেন্ট দেয়ার পরে তা রোগীরা ভালো ভাবে পাচ্ছে কিনা, তা দেখভালের জন্য মিডলেভেল চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনে মিডলেভেল চিকিৎসকদের অবহেলা রয়েছে। তারা এই কাজটি সঠিক ভাবে পালন করেনি।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা পরিচালকের করা মামলাটির দুই আসামীকে ইতোপূর্বে পুলিশের দায়ের করা মামলায় আদালতে প্রেরন করেছি। তারা জেল হাজতে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মেডিসিন সাব সেন্টার ও স্টোরে পুলিশ নজরদারি রয়েছে। এছারাও ওষুধ পাচারের বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রমান মিললেই ব্যাবস্থা নেয়া হবে।