শেবাচিমে ঈদে চিকিৎসা সেবা পেয়েছে রোগীরা

রুবেল খান॥ চিকিৎসক ও নার্স স্বল্পতার মধ্যেও চিকিৎসা সেবায় রেকর্ড গড়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র তদারকিতে। যার ফল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। তাদের চিকিৎসা সেবা পেতে তেমন কোন ভোগান্তি পেতে হয়নি। ঈদের ছুটিতেও খোলা ছিলো বহিঃর্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। পাশাপাশি অন্যান্য বছরের থেকে মৃত্যুর হারও কমেছে। সূত্র মতে প্রতি ঈদ এলে শেবাচিম হাসপাতাল চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা গনছুটিতে যায়। এবার ব্যতিক্রম হতো না। কিন্তু আগাম ছুটি এবং গন ছুটিতে যাওয়ার প্রস্তুতি ভেস্তে গেছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ-এমপি’র নির্দেশনায়। তার নির্দেশে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের গন ছুটি বাতিল করেন হাসপাল পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম। সেই সাথে ঈদের ছুটিতেও আন্ত: বিভাগের পাশাপাশি খোলা রাখা হয় হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগ। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম নিজে কর্মস্থলে থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঈদের আগের দিন ৫ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার ৬০৭ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। এর মধ্যে তিন দিনে মারা গেছে ২৩ জন। যা ঈদের তুলনায় অনেক কম বলে দাবী করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫ অক্টোবর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহন করেন ৮৫৬ জন। এই দিন ভর্তি হয়েছেন ১৮৫ জন। মৃত্যু সংখ্যা ৯ জন। ৬ অক্টোবর ৮৫০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহন করেছে। এর মধ্যে মত্যু হয়েছে ৫ জনের। এই দিন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১৮৪ জন। এছাড়া ৭ অক্টোবর ৯০১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জন। এ দিন নতুন ভর্তি হয়েছে ২২১ জন। যাদের মৃত্যু হয়ে তার মধ্যে বেশিই দুর্ঘটনা এবং হৃদরোগজনিত কারনে। এবছর ঈদে মাতৃ এবং শিশু মৃত্যুর হার কয়েকগুন কম। তবে সেবার মান অনেক বেশি বলে দাবী করেন গাইনী ও শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা।এ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবর ২৪ জন অন্ত.সত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৬ অক্টোবর ১৮ এবং ৭ অক্টোবর ১৯ জন। এদের মধ্যে ৫০ অন্ত.সত্ত্বা অস্ত্রপচারের এবং ১৮ স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করেছে। এ সময়ে কোন মা এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন গাইনী ওটি ও লেবার ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ। হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম জানিয়েছে, অন্যান্য দিনে হাসপাতালে যে সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে তার তুলনায় ঈদের তিন দিন রোগীর মৃত্যু সংখ্যা খুবই কম ছিলো। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা দুর্ঘটনা অথবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন। তাছাড়া ঈদ বা কোরবানীতে যে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তারা নিশ্চই মুমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার চিকিৎসক ও নার্সদের গনছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া নগরীর মধ্যে যেসব চিকিৎসক ছুটিতে ছিলেন তাদেরকে সকালে এবং রাতে হাসপাতালে রাউন্ড দিয়ে রোগী দেখা বাধ্যতা মুলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নির্দেশ এবং তার তদারকির জন্যই এবার হাসপাতালের পরিস্থিতি অনেক ভালো এবং স্বাভাবিক ছিলো বলে দাবী করেছেন তিনি।