শেবাচিমে অপচিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু॥ হুমকি দিয়ে স্বজনদের বের করে দেয়ার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়া গেছে, তোরা লাশ নিয়ে দ্রুত চলে যা, না গেলে বিপদে পড়বি, পুলিশে ধরিয়ে দেব, আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না’। এক শিশুর মৃত্যুর পর বিলাপরত বাবা-মাকে এভাবে হুমকি-ধামকি ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’র পর ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি গতকাল সোমবার শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু সার্জারী ওয়ার্ডে ঘটেছে। মৃত শিশুর বাবা-মা ও স্বজনদের অভিযোগ- ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু সার্জারী ওয়ার্ডের চিকিৎসক এবং শিক্ষানবীশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকরা একজোট হয়ে এমন দম্ভোক্তি করে। পরে শিশুর লাশ সহ তার বাবা-মা ও স্বজনদের হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয় তারা। মনুষ্যত্বহীন চিকিৎসকদের অপচিকিৎসায় মারা যায় ৮ মাস বয়সি শিশু কন্যা তাসমিন। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার সাতমাইল বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পাংশা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউর রহমান রুমনের একমাত্র মেয়ে।
রুমনের মামাত ভাই আনোয়ার হোসেন সবুজ জানান, তাসমিনের মাথায় একটি ফোড়া হয়েছিল। কয়েকদিন আগে শেবাচিম হাসপাতালের বর্হিবিভাগে দেখানোর পর চিকিৎসকরা সোমবার যেতে বলে। গতকাল বাবা-মা তাসমিনকে নিয়ে শিশু সার্জারী বিভাগে যান। সেখানাকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ফোড়ার অস্ত্রপচার করতে ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর পরই নাক-মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে তাসমিন নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
সবুজ আরো জানান, শিশুটি নিস্তেজ হওয়ার পর তাকে দ্রুত ওটির ভেতরে নিয়ে যান চিকিৎসকরা। অধাঘন্টা ধরে চিকিৎসকদের তৎপরতা দেখে অভিভাবকদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে অভিভাবকদের কাছে শিশুটির মৃত্যুর কথা চিকিৎসকরা স্বীকার করেন। তখন অভিবাবকরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এবং পুশ করা ইনজেকশনের মোড়ক দেখতে চাইলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ পুলিশ ডেকে এনে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ সবুজের। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরাও কিছু করতে না পারার কথা স্বীকার করে স্বজনদের চলে যেতে অনুরোধ করলে তারা চলে আসেন।
এ প্রসঙ্গে শিশু সার্জারী বিভাগের প্রধান ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মাথায় অস্ত্রপচারের আগেই তার মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতালের সরবরাহ করা ইনজেকশন শিশুটির শরীরে পুশ করা হয়েছিল। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীর মুত্যুর পর স্বজনরা আবেগআপ্লুত হয়ে এ ধরনের অভিযোগ করে থাকেন। তবে স্বজনদের সঙ্গে দূব্যবহারের ঘটনা ঘটে থাকলে এসময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে এড়িয়ে যান ডা. তৌহিদুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিশু সার্জারী বিভাগে রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উত্তেজনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তিনি সেখানে পুলিশ ও ওয়ার্ড মাষ্টারকে পাঠান। তবে চিকিৎসকরা নন, তিনি শুনেছেন, স্বজনরাই নাকি চিকিৎসকদের সঙ্গে দুব্যবহার করেছে। এই ঘটনায় মৃত শিশুর পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।