শেবাচিমের ৪র্থ শ্রেণির কোয়ার্টারের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টারে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের আহ্বানে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম এই আদেশ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অবৈধ দখলদারদের মাইকিং এর মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সরিয়ে না নেয়া হলে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আদেশ বাস্তবায়ন করবেন জেলাপ্রশাসক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণি স্টাফ কোয়ার্টারের সরকারি জমিতে অবৈধ বাজার বানিয়ে রেখেছে বহিরাগত একটি মহল। এটি একটি আবাসিক এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কোয়ার্টারের মধ্যে জমি দখল করে ভাতের হোটেল এবং সেলুন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের স্থাপণা তৈরি করা হয়েছে।শুধু তাই নয় কোয়ার্টারে থাকা স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠে ভাতের হোটেল নির্মাণ করেছে দখলবাজরা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভাতের হোটেল গুলোর মাধ্যমে এলাকার পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। হোটেল গুলোতে রান্না করা ভাতের মাড় উন্মুক্ত স্থানে ফেলায় তা জমাট হয়ে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যে কারণে শুধু রাস্তা দিয়ে হাটতে গেলেই নয়, কোয়ার্টারে থাকতে গেলেও মুখে রুমাল কিংবা কাপড় চেপে থাকতে হয়। তাছাড়া দোকানগুলোতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক লাইন। মাস গেলে যার গচ্চা দিতে হচ্ছে কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মচারীদের।
এদিকে শুধু খাবার হোটেল নয়, এখানে রয়েছে অবৈধ পান-সিগারেট সহ বিভিন্ন ফলের দোকান। শেবাচিম চত্ত্বর থেকে উচ্ছেদের পর এরা স্থান নিয়েছে কোয়ার্টারের মধ্যে। যে কারণে রাস্তা দিয়ে এলাকার মানুষ হাটতে পারছেনা। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং চাকুরীজীবী নারীরা কোয়ার্টারের রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। তাছাড়া অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাতের আঁধারে অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জানান কর্মচারীরা।
এদিকে শেবাচিমের কোয়ার্টার অবৈধ দখলদার এবং সমস্যার বিষয়ে জেলা প্রশাসক পরিচালিত বরিশাল- সমস্যা ও সম্ভাবনা নামক ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালককে চিঠি দেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এর পরপরই পরিচালক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দখলদারদের নির্দেশ করেন। তাছাড়া বুধবার রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শীতেষ সরকারের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় ভ্রাম্যমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করেন। একই সাথে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। এসময় দুই জনকে আটকও করেন তারা। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর তাদের ছাড়িয়ে রাখেন।
এদিকে অভিযোগের পর গতকাল ঐ স্থানে একই চিত্র ফুটে উঠেছে। পুনরায় রাস্তা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে কোয়ার্টারে বসবাসকারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তাই বিষয়টির প্রতি জেলা প্রশাসকের সু-দৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসী।