শেবাচিমের স্থগিত হওয়া নিয়োগ নিয়ে পরিচালকের এপিএস নান্নার মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থগিত হওয়া কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের নতুন মিশনে নেমেছে পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী সৈয়দ নান্না। মন্ত্রনালয়ের ভুয়া স্মারক ব্যবহার করে স্থগিত হওয়াদের বেতন ভাতা উত্তোলন ও বৃদ্ধি নোটিশ টানিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। গত কদিন যাবত নোটিশ টানিয়ে এমন ভুয়ামির আশ্রয় নিলেও গতকাল তা ফাঁস করে দিয়েছেন অন্যান্য কর্মচারীরা। অতঃপর তোপের মুখে পড়ে ভুয়া নোটিশ ছিড়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে সৈয়দ নান্না। এমনকি নান্নার চাঁদাবাজীর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র জানায়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিয়োগ কেলেংকারীতে পরিচালক সহ তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্তর পাশাপাশি নিয়োগ প্রাপ্তদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর পর থেকেই নিয়োগ দুর্নীতির সহযোগী একাধিক দুর্নীতিবাজ কর্মচারী স্থগিত হওয়াদের কাছ থেকে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন/চার দিন পূর্বে নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী এবং পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী সৈয়দ নান্না অর্থ আত্মসাতের নয়া মিশন শুরু করেন। চাকুরী স্থগিত হওয়া কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং যাদের কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে তা সংশোধনের কথা উল্লেখ করে ওয়ার্ড মাস্টার কার্যালয়ে একটি নোটিশ টানিয়ে দেন। ০৭.০০.০০০০.১০৩.১৮.০০১.১৫ নং- স্মারকটিতে এ সংক্রান্ত বিষয়ে তানভির, বিপ্লব, তানজিল, এ্যানি, মাহিদা, তামিম ও তাহসিনের সাথে নিয়োগ প্রাপ্তদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে তারা সবাই স্থগিত হওয়া কর্মচারী।
জানতে চাইলে সৈয়দ নান্নান প্রথমে পরিচালকের নির্দেশে নোটিশ টানানো হয়েছে বলে দাবী করলেও পরবর্তীতে পুরো বিষয়টিই এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস.এম সিরাজুল ইসলাম’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোটিশের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তাছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোন চিঠি আসেনি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, নান্নান যে কাজটি করেছে তা ঠিক হয়নি। তাকে নোটিশ ছিড়ে ফেলতে বলবেন বলে জানান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেও সৈয়দ নান্নান ওয়ার্ড মাস্টার কার্যালয়ে টানানো নোটিশ ছিড়ে ফেলেন নান্নান।