শেবাচিমের ব্রাদারের চিকিৎসায় যুবতী পঙ্গু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সের (ব্রাদার) এর অপচিকিৎসায় পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে হচ্ছে পপি আক্তার (২২) নামের এক তরুনীকে। বর্তমানে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপচিকিৎসার কারনে তরুনীর পায়ের ক্ষতস্থান কেটে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক। পপি নামের ঐ তরুনী বাবুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ভুতেরদিয়া গ্রামের আব্দুল হান্নান এর মেয়ে।
এদিকে অপচিকিৎসার শিকার এই তরুনী আইনের আশ্রয় নিতে চাইলেও তাতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি অপচিকিৎসা প্রদানকারী ব্রাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পপি আক্তার নামে ঐ তরুনী পায়ে আঘাতের কারনে আঙ্গুলের একটি নক নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী বহিঃবিভাগে আসেন। এসময় সার্জারী বহিঃবিভাগের ওটিতে দায়িত্বে থাকা নার্স (ব্রাদার) রেজাউল করিম বাচ্চু চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ওটিতে সরকারী অস্ত্রপাতি ব্যবহার করে পপি’র পায়ের নক তুলে ফেলেন। এজন্য পপি’র কাছ থেকে ৫শ টাকা রাখেন বাচ্চু।
এদিকে বাচ্চু’র অপচিকিৎসার শিকার এই তরুনী পপি’র পায়ের নক তোলার কদিন পার হলেও ক্ষত স্থান ভালো হচ্ছিল না। বরংচ ঐ স্থানে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ধারন করে। কিছুদিন পর সে পূনরায় হাসপাতালে আসলে বাচ্চু তাকে দুঃব্যবহার করে ফিরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে পপি সার্জারী বহিঃবির্ভাগের আবাসীক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক চন্দ্র কীর্তনিয়ার কাছে গিয়ে বিস্তারিত বলেন এবং বাচ্চুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন। কিন্তু ডা. দীপক চন্দ্র কীর্তনিয়া বিষয়টি চেপে গিয়ে ঐ মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ আগস্ট পপি নামের তরুনীকে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ইউনিট-২ এর অধিনে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধিন রয়েছে। তবে অপচিকিৎসার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করতে আগ্রহী হলেও সুষ্ঠু চিকিৎসা না পাওয়ার ভয়ে পরবর্তীতে তিনি কোন তথ্য দিতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে সার্জারী বহিঃবিভাগের আবাসীক মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক চন্দ্র কীর্তনিয়া বিষয়টির সত্যতা শিকার করে বলেন, মেয়েটি আমার কাছে এসে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানিয়েছিলো। আমি তাকে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছি। তবে যেহেতু আগে চিকিৎসার প্রয়োজন সে জন্য পপিকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি। এমনকি তার চিকিৎসার বিষয়ে তিনিই নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছেন। তার চিকিৎসার যাবতীয় খবর সমাজ সেবা কার্যালয় বহন করছে।
ডা. দীপক বলেন, নার্স বাচ্চু রোগীর উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি হয়ে গেছে। তবে এ জন্য সে দায়ি নন। কারন যে লোকাল দিয়ে তার পায়ের ক্ষতস্থান অবশ করা হয়েছিলো তা সরকারী ভাবে ক্রয় করা। ঐ লোকাল নি¤œমানের বিধায় ক্ষতস্থানে সমস্যা হয়েছে। তার পরেও অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই নার্স রেজাউল করিম বাচ্চুকে ওটি থেকে সরিয়ে মানুষিক ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ব্রাদার রেজাউল করিম বাচ্চু স্থানীয় ছেলে হওয়ায় বিষয়টি সে ভাবেই ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, বাচ্চু’র বিরুদ্ধে সরকারী ওষুধ, গজ বেন্ডিজ এবং যন্ত্রপাতি চুরির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বাচ্চু’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।