শেবাচিমের নিয়োগ বানিজ্য ॥ সাবেক পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিয়োগ বানিজ্যের প্রায় দুই বছর পরে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তৎকালিন পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মতিউর রহমান কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় নামধারী আসামী করা হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালের সাবেক পরিচালক (অব.) এবং চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক এবং একই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল জলিল।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মতিউর রহমান মামলাটি দায়ের করেছেন।
এদিকে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। এতে ১৭২ জন জনবল বিভিন্ন পদে নিয়োগের কথা থাকলেও সেখানে মোট ২২৬ জনকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ কমিটির সভাপতি তৎকালিন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিচালক ও চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নিজাম উদ্দিন ফারুক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল জলিল এবং উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন করে। এজন্য তাদের সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে চাকুরী ফিরে পান। এমনকি নিজাম উদ্দিন ফারুক ও শহীদুল আলম অবসরে গিয়ে অবসরকালিন সকল সুযোগসুবিধা ভোগ করেন। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পুণরায় কর্মস্থলে যোগদান করে বকেয়া-বেতন বোনাস উঠিয়ে নেয়।
অপরদিকে দুদক সূত্র জানায়, অনেক আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দুদকের কাছে কাগজপত্র হস্তান্তর করে। এর পর থেকেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছিলো। সর্বশেষ তদন্তে নিজাম উদ্দিন ফারুক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল জলিল এর নিয়োগ বানিজ্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে অন্যকেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে দুদকের সূত্র নিশ্চিত করেছে।