শেবাচিমের জরুরী বিভাগে তালা দিয়ে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি ও তুহিনের বহিস্কার দাবীতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে জরুরী বিভাগে তালা দিয়ে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের বিক্ষোভের ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের। গেট বন্ধ থাকায় বেশ কিছু রোগী হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তাদের ভর্তি এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হযেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে গেট খুলে দেয়া হলেও রাত ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি আপতত স্থগীত করেছে ছাত্রলীগের ঐ গ্রুপটি। আল্টিমেটাম অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাফি এবং তুহিনকে বহিস্কার না করা হলে আগামী কাল থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন বলে আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের এক গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের হোস্টেল কমিটির সভাপতি ইমরান হোসেন ও অনুপ দাস জানান, সম্প্রতি মেডিকেল কলেজের ৪০তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি ও ৪২ তম ব্যাচের তুহিন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে নিজেদের সভাপতি-সম্পাদক দাবী করে ভূয়া কমিটি ঘোষনা করেন। বিষয়টি মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের মধ্যে জানাজানি হলে সেই রাতে রাফি ও তুহিন সহ তাদের সহযোগিদের রুমে ভাংচুর চালায়। এমনকি পরদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলও করে তারা।
এ ঘটনায় ঐদিন নগর ছাত্রলীগ রাফি ও তুহিনের কমিটি ভূয়া বলে আখ্যা দিলে শান্ত হয় ছাত্রলীগের পদবঞ্ছিত ইমরান-অনুপ গ্রুপ।
তারা অভিযোগ করেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাফি বহিরাগত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কাজী মিলন, প্রদীপ দাস সহ অন্যান্যদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শোডাউন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এজন্য তাদের প্রতিহত করতে সাধারন শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়।
ইমরান-অনুপ জানায়, রাফি ও তুহিনকে অবাঞ্ছিত ঘোষনার পরেও তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। আর তাই রাফি ও তুহিনের বহিস্কার সহ বিচারের দাবীতে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেট আটকে দেয় সাধারন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া রাফি জানান, তিনি তার মেডিকেল কলেজের সহপাঠিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এসময় বহিরাগত কেউ তার সাথে ছিলো না। কিন্তু তার পরেও সুবিধাভোগি এবং ছাত্রলীগ নেতা দাবীদার অনুপ ও ইমরানের নেতৃত্বে তাদের বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এমনকি নিজের মধ্যে এমন ঝামেলা হলেও অযথা হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ জরুরী বিভাগের গেট বন্ধ করে রোগীদের ভোগান্তিতে ফেলে। এটা ছাত্রলীগের কোন নেতা বা কর্মীর পক্ষে সম্ভব হয়। যারা এই কাজ করেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন রাফি।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রবেশের ঘটনায় ছাত্রলীদের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য এক পক্ষ হাসপাতালের গেট আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা গেট খুলে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।