শেবাচিমের কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকায় নিয়গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে জনবল নিয়োগ প্রকাশের পর পরই হাসপাতালে শুরু হয়েছে দৌর ঝাপ। চাকুরী পেতে হাসপাতালের সরকারী কর্মচারী সমিতির নেতা, কর্তৃপক্ষ এবং রাজনীতিক ব্যক্তির দারস্থ হতে শুরু করেছে চাকুরী পেতে আগ্রহীরা। এর পাশাপাশি চাকুরী দেয়ার নামে ইতোমধ্যে নিয়োগ বানিজ্যে নেমে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বিতর্কিত কর্মচারী নেতাদের বিরুদ্ধে।
প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সর্ব শেষ ১৯৮৯ সালে তৃতীয় ও চুতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৫শ শয্যার এ হাসপাতালটি এক হাজার শয্যায় উন্নিত করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কয়েক দফায় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী কোঠায় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। ফলে এক দিকে চাকুরীর মেয়াদ শেষ এবং অন্যদিকে মৃত্যু জনিত কারনে নির্ধারীত কোঠার অর্ধেকের বেশি কোঠা শূণ্য হয়ে যায়।
এদিকে গত বিএনপি সরকারের আমলে হাসপাতালে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারীর শূণ্য কোঠায় জনবল নিয়োগ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে নিয়োগপত্র পোষ্ট অফিসে নেয়ার পথে তা ছিনতাই হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে পূনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে পূর্বের নিয়োগে চাকুরী হয়েছে দাবী করে এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির তদারকিতে প্রায় এক বছর পূর্বে মামলার নিষ্পত্তি ঘটে। পরে তৃতীয় দফায় মন্ত্রনালয় থেকে নিয়োগের আদেশ দিলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ শেবাচিম হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ-এমপি। এর প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার পত্রিকার মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির বেশ কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই সাবেক কমিটির একটি গ্রুপ প্রতারনার ফাদ পেতেছে। তারা মুক্তিযোদ্ধা সহ অন্যান্য কোঠায় চাকুরী দেয়ার নাম করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের মিশনে নেমেছে। তবে কারো আশ্বাসে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম।