শেবাচিমের এনজিওগ্রাম পূর্নাঙ্গ রূপে চালু হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে পূর্নাঙ্গ রূপে চালু করা হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহা বিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা। ইতিমধ্যে এখানকার দুই চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান এ সম্পর্কে ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে বরিশালে ফিরেছেন। চলতি মাসেই নিয়মিত ভাবে ব্যয়বহুল এবং হার্টের ব্লোক সনাক্তকরন পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের শুরুতে শেবাচিম হাসপাতালে সাড়ে ৮ কোটি টাকা মূল্যের একটি এনজিওগ্রাম মেশিন সরবরাহ করা হয়।  প্রায় দুই মাস মেশিনটি প্যাকেট বন্দি থাকার পর তৎকালীন হৃদ রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ রনজিৎ চন্দ্র খাঁ পরীক্ষা মুলক ভাবে মেশিনটি চালু করেন। এ সময় ২৩ জুলাই আব্দুর রাজ্জাক নামের এক রোগীর সফল এনজিওগ্রাম করেন সহকারী অধ্যাপক ও ইন্টা ভেনশনাল অব কার্ডিওলোজীষ্ট ডাঃ মোঃ শালেহ উদ্দিন। এ সময় ঐ রোগীর হার্টে তিনটি ব্লোক ধরা পড়ে। তবে এর পর আর কোন রোগীর পরীক্ষা করা হয়নি।
হৃদ রোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ডাঃ হুমায়ুন কবির বলেন, এনজিওগ্রাম পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। আর তা না থাকায় এতোদিন এনজিওগ্রাম হচ্ছিল না। তবে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দুই চিকিৎসক ও নার্স সহ বেশ কয়েকজন ভারত থেকে প্রশিক্ষন গ্রহন করে বর্তমানে বরিশালে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, এনজিও গ্রাম চালু হলেও বরিশালে রিং পড়ানো সম্ভব হবে না। কেননা রিং পড়ানোর জন্য প্রয়োজন কিছু যন্ত্রপাতি। সেগুলো সরবরাহ করা হলে বরিশালেই রিং পড়ানো হবে।
এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে পাঞ্চার সেট, ব্লক বেলুন, ক্যাথেডার ও ক্যাবেল।  শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ মুঃ কামরুল হাসান সেলিম বলেন, এ হাসপাতালে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা চালু করতে ইতিমধ্যে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা চালু করছেন তারা। চলতি মাসেই এনজিওগ্রাম পরীক্ষা চালু করার জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, শুধু এনজিওগ্রাম নয়, হার্টে রিং স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি প্রেরন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এসব মালামাল সরবরাহ করা হবে বলেন তিনি।