শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে মহাজোট সরকার – তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জাতীয় সমাজতন্ত্রীক দল (জাসদ) এর সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, শেখ হাসিনা সেই মেয়ে, ‘যিনি রাঁধেন এবং চুলও বাঁধেন’। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার দেশের উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছি। শুধু তাই নয়, মহাজোট সরকারের গত ৮ বছরে রাজাকার এবং জঙ্গিদের উপর নজর দিয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যু দন্ডাদেশ কার্যকরের মাধ্যমে ৭১’র কলঙ্ক মোচন করতে পেরেছি। এটা শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারো পক্ষেই সম্ভব ছিলো না। বিএনপি যেখানে জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা খুলে বসেছেন, সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ থেকে জঙ্গি নির্মুল করেছি। এই দেশে কখনই আর জঙ্গিদের উত্থান ঘটবে না।
গতকাল শনিবার বিকালে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হল চত্ত্বরে জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল জাসদ বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় হাসানুল হক ইনু-এমপি এসব কথা বলেছেন। ‘জঙ্গীর রাজনৈতিক সঙ্গী বর্জন ও বিচার কর, দূর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান কর, সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়’ এই শ্লোগান নিয়ে জাসদ বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মজিবুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু-এমপি আরো বলেন, শেখ হাসিনা বলেছিলেন বিশ্বব্যাংকের কোন প্রকার সহায়তা ছাড়াই আমরা পদ্মা সেতু নির্মান করবো। এমনকি আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে গাড়ি চলবে। আর সেইটাই আমরা করে দেখিয়েছি। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের গায়ের চামড়া দিয়ে হলেও দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ সম্পন্ন করবো।
তিনি বলেন, মহাজোট সরকারের ক্ষমতার গত ৮ বছরে আমরা দেশের মানুষের খাদ্য, পানি, বাসস্থান আর শিশু শিক্ষার্থীদের ৩৫ কোটি বইও দিয়েছি। যা বরিশালবাসীরও জানা রয়েছে। কারন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বরিশাল বিভাগে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে পাল্টে দেয়া হয়েছে গোটা বিভাগের চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কে এক সঙ্গে তিনটি সেতু নির্মান আমরাই করেছি। লেবুখালী সেতুর কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। শুধু তাই নয়, বরিশালে পায়রা বন্দর এবং পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শেষ হলে বরিশাল হবে দেশের অর্থনৈতিক রোল মডেল। শেখ হাসিনা বরিশালবাসীকে কথা দিয়েছেন বরিশালের মাটিতে চলবে রেলগাড়ি। আর সেটা বেশি দূরে নয়।
মন্ত্রী বলেন, বরিশালবাসী এক সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিল। যখন শুনেছিলেন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর কাজে ঋন দিচ্ছে না। তখন শেখ হাসিনার উপরেও অনাস্থা এসে গিয়েছিল। যখন দেশের মধ্যবিত্তরা বলল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না। রায় দিলেও ফাঁসি দিবে না। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে দিয়েছি কুখ্যাত রাজাকারদের ফাঁসিতে ঝোলানোর মাধ্যমে। শেখ হাসিনা আর ইনুর সঙ্গে কখনই রাজাকারদের আঁতাত হয়নি। অনেকে বলেছিল, নিজামীর ফাঁসি হলে সৌদি থেকে ৩০ হাজার বাংলাদেশীকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং আমাদের ভাইয়েরা ভালো আছেন।
হাসানুল হক ইনু আরো বলেন, আমরা ভোটের সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। আমরা আমাদের কথা রাখতে পারেছি। কারন শেখ হাসিনা সরকার গতানুগতিক নয়। সম্পূর্ণ আলাদা। এ সরকার রুটিনমাফিক কাজের সরকার নয়। এ সরকার দেশ পরিচালনা এবং জনগনের দায়িত্ব নিয়েছে। তাই এ আমলে এমন কিছু হচ্ছে যা আপনারা কল্পনাও করতে পারছেন না। এবার কঠিন একটি রাজনৈতিক অংক মিলাতে হবে। দেশ কোন পথে যাবে? ১৯ সালে জানুয়ারীতে আবার ভোট করতে হবে। বাংলাদেশে এখনো জঙ্গী দমনের যুদ্ধ শেষ হয়নি। হামলাকারী জঙ্গীরা এখনো আত্মসমর্পন করেননি। গনতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধে আমরা এখনো আছি। ভবিষ্যতেও থাকব।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি জঙ্গী উৎপাদনের কারখানা। জঙ্গী দমনের যুদ্ধ, জঙ্গীর সঙ্গী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনও করব, জঙ্গীও রাজনীতি থেকে বাদ দিব। মানুষ পোড়ানো নেত্রী খালেদাকেও বিচারের কাঁঠগড়ায় দাড় করানো হবে। এখোনো বিএনপি জঙ্গী ও যুদ্ধাপরাধীদের ওকালতি করে। এরা গনতন্ত্রের উকিল কোনদিনও হতে পারবে না। খালেদা বলেছেন, কারাগারে গেলে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। না করলে, না করবেন। ওই হুমকি আমাদের দিয়ে লাভ নেই। শেখ হাসিনার মহাজোটের ছাতার তলায় চালবাজি চলবে না।
জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, বরিশাল জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, মহানগরের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির মুকুল, জেলা কমিটির সহ-সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন ছানা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনিরুল আলম স্বপন।