শুরু হচ্ছে দুর্গোৎসব কড়া নাড়ছে কোরবানী

চন্দন জ্যোতি॥ শারদীয় দুর্গোৎসবের মূলপর্ব শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকী। অন্যদিকে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দূর্গার আগমনী বার্তা শুরু হলেও মন্ডপ কেন্দ্রীক পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মহা ষষ্ঠীতে দেবী দূর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে। আর মহা সপ্তমী থেকে পূজার মূলপর্ব শুরু হয়। এ দিন থেকেই ভক্তরা মা-দূর্গা সহ স্বরস্বতী, লক্ষ্মী, গনেশ আর কার্তিকের প্রীতি লাভের আশায় মন্ডপে-মন্ডপে জড়ো হতে থাকে। সপ্তমী পূজার দিন বিকেল থেকেই প্রতিমা দর্শনার্থী পদ চারণায় মুখড়িত হতে থাকে মন্ডপগুলো। যা অব্যাহত থাকে বিজয়া দশমীর পরে বিসর্জনের পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত। তবে এর মধ্যে মহা অষ্টমী আর মহা নবমী পূজার দিন দর্শনার্থীদের পদচারনায় উৎসব প্রিয় বাঙালী জাতী যেকোন উৎসবকেই আপন করে নেয়। তেমনী শারদীয় দুর্গোৎসবেও ধর্ম-বর্ণ নির্বেশেষে উৎসবের স্বাদ নিতে একাকার হয়ে যায়। স্থাপন হয় এক সামাজিক বন্ধনে। এদিকে শারদীয় দূর্গোৎসব শুরুর জোর প্রস্তুতি চলছে। একদিকে প্রতিমায় রং তুলির শেষ প্রলেপ দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা আর অন্যদিকে মন্ডপের শোভা বর্ধনে তোরণ নির্মান ও আলোক সজ্জায় ব্যস্ত আছেন কারিগরেরা।
সব মিলিয়ে বরিশাল জেলার ৫৬৮টি পূজা মন্ডপে এখন সাজ-সাজ রব। এর মধ্যে বরিশাল নগরীর ৩৪টি পূজা মন্ডপের মধ্যে সার্বজনীন রয়েছে ২৮টি। এই মন্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দরা স্ব-স্ব মন্ডপের প্রতিমা তৈরি, বাহারী নকশার তোরণ ও আলোক সজ্জার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করতে অনেকটা নির্ঘুম রাত পার করছেন। সেই সাথে শারদীয় দূর্গোৎসবের শান্তি-শৃংঙ্খলা রক্ষায়ও প্রস্তুত প্রশাসন সহ আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী।
শারদীয় দূর্গোৎসবের বিসর্জনের মাধ্যমেই দেবী দূর্গার বিদায়ের একদিন বাদেই অর্থাৎ ৬ অক্টোবর হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। তাই নগরীর আট স্থানে বসছে কোরবানীর পশুর হাট। চলছে এসব পশুর হাটের প্রস্তুতি। সাম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় করতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ব্যস্ত। আজ থেকে শুরু হবে শধু নগরী নয়, দেশে ১০ দিনে উৎসব।