শিশু শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মত করে দেখতে হবে শিক্ষকদের, তা হলেই শিক্ষার মান বাড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কারখানা ভালো হলে উৎপাদনও ভালো হবে। তেমনি প্রাথমিক স্তরে শিক্ষকরা ভালো হলে এবং শিশুদের শিক্ষা দানের বিষয়ে আন্তরিক হলে শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে। গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ অশ্বিনী কুমার হলে আয়োজিত বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত (আতিক-কাসেম-শাহীন) পরিষদের বরিশাল বিভাগের নেতৃবৃন্দের পরিচিতি সভা ও বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি আয়োজিত পরিচিতি সভা ও বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির বিভাগীয় সমন্বয়ক মোজাম্মেল হোসেন মানিক। এছাড়া পরিচিতি সভা ও শিক্ষক সমাবেশের প্রধান বক্তা ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা সমিতি  কেন্দ্রীয় কমিটির সধারন সম্পাদকজ মো. আবুল কাশেম।
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, শিক্ষকরা তাদের দাবী দাওয়া এবং জীবন জীবিকা নিয়েই ক্লান্ত। তারা সরকারের অবদানের কথা শিশুদের বলছে না। কে প্রধান মন্ত্রী, কে শিক্ষা মন্ত্রী আর সরকার কি তা আমাদের শিশুরা জানে না। সপ্তাহে রুটিন করে অন্তত একমাস ক্লাশে সরকারের পরিচিতি এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের বিষয়ে শিশুদের ক্লাস করান। তাহলে অন্তত প্রাথমিক স্তরেই শিশুরা সঠিক ইতিহাস সহ মানসম্মত শিক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক এর সন্তানের কাছে পড়া জিজ্ঞাসা করলেই বোঝা যাবে যে সে শিক্ষকের সন্তান। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে দৈন্যতা। প্রাথমিক স্তরের সকল শিশু শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মত করে দেখতে হবে। তাদের প্রতি একই ভাবে পরিচর্যা এবং গুরুত্ব দেয়া হয় তাহলে অন্য শিশুরাও শিক্ষকদের  সন্তানের মত মানসম্মত শিক্ষা পাবে। শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বৃটিশ আমল কিংবা পাকিস্তান সরকারের ২৪ বছরেও এ দেশে কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো না। একমাত্র বঙ্গবন্ধুই ৩শ বছর পরে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কার্যক্রম চালু করেছেন। ১৯৭৩ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয় করন করে সরকারি চাকুরীর মর্জাদা দিয়েছেন। তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় করন করে আরো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে শিক্ষকদের পদ মর্যাদা ও বেতন স্কেল উন্নিত করন, বৈশাখী ভাতা ও মহার্ঘ্য ভাতা দিয়েছেন। কিন্তু পূর্বের সরকার কিছু করতে পারেনি। শুধু বঙ্গবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনাই পেরেছেন শিক্ষকদের স্বপ্ন দেখাতে।
শিক্ষকদের দাবীর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের সকল দাবীসমুহ মেনে নেয়া হবে। তাই আপনাদেরও এক দফা দাবি নেমে নিতে হবে। তা হলো শিশু শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করা। পরিচিতি ও বিভাগীয় শিক্ষক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সাংসদ এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা মো. আবুল বাশর, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আতিকুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল  সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এসএম ইকবাল, শিশু সংগঠক জীবন কৃষ্ণ দে প্রমুখ।