শিশুদের স্টুডেন্ট্স ক্যাবিনেট নির্বাচনেও সরকার দলীয় নেতাদের প্রভাব !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশালের স্কুলে স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো স্কুল ক্যাবিনেট নির্বাচন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকাল ৩টায়। উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে বরিশালের মাধ্যমিক এবং দাখিল পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে করে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা পর্যায়ে সাধারন নির্বাচনের মতই ভোট বিহিন নির্বাচনের খবর পাওয়া গেছে। কোন কোন স্কুল এবং মাদ্রাসায় নির্বাচন ছাড়াই স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট কমিটি ঘোষনার অভিযোগ উঠেছে। সরকার দলীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত এবং হস্তক্ষেপে উপজেলা পর্যায়ে ক্যাবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিএনপি অনুসারী কিংবা সমর্থক কোন নেতার সন্তান নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা। তবে নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সূত্রমতে, ভর্তির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা আর শিশুদের মাঝে গণতন্ত্র চর্চার ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট’ নির্বাচন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় বারের মত সারা দেশের নয়, বরিশাল বিভাগেও গতকাল এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল নগরী এবং সদর উপজেলার স্কুল ও মাদ্রাসা গুলোতে উৎসব মুখর পরিবেশে ক্ষুদে ভোটাররা ক্যাবিনেট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যেকটি স্কুল এবং মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত। গনতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরন করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এতে করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট নয়, বরং আনন্দিত হতে দেখা গেছে।
তবে নগরীর বাইরে কোন কোন স্থানে নির্বাচনে ক্ষমতাসিন দলের নেতাদের প্রভাব বিস্তারের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাকেরগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল এবং মাদ্রাসায় শাসক দলের নেতাদের কারনে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন হয়নি। শাসক দলের নেতারাই নির্ধারন করে দিয়েছেন ৮ সদস্যের ক্যাবিনেট। তাদের মধ্যে থেকে যারা দলীয় নেতা-কর্মী এবং ম্যানেজিং কমিটির লোক তাদের সন্তানরাই নির্বাচন করতে পেরেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে থেকেই ভোট ছাড়া প্রধান মন্ত্রী হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারনে শিশু বয়সের গণতান্ত্রিক চর্চা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ওইসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শুধুমাত্র গ্রাম অঞ্চলের স্কুল মাদ্রাসাতেই নয়, নগরীর বিদ্যালয় গুলোতেও প্রার্থী নির্ধারনের ক্ষেত্রে সাশক দলের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবী যেসব শিশুরা ক্যাবিনেট নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষমতাসিন দলের নেতা-কর্মীদের সন্তান ও আত্মিয় স্বজন। এ নির্বাচনে বিএনপি নেতা-কর্মী কিংবা তাদের আত্মিয় স্বজনের সন্তানদের অংশ গ্রহন ছিলো না বললেই চলে। কেননা প্রার্থী নির্ধারনের ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ অন্যান্য সদস্যরা দলীয় করনের মাধ্যমেই শিশু শিক্ষার্থীদের ক্যাবিনেট নির্বাচনে সিলেক্ট করেছেন। এর ফলে অনেক বিদ্যালয়ের সব থেকে দুষ্ট স্বভাবের ছাত্রও প্রধান মন্ত্রী এবং মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে। যে কারনে বিষয়টি নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে গৌরনদীর কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলার অধিকাংশ স্কুলে মনগড়াভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক অভিভাবকদের সন্তানদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক (ফরম সংগ্রহ করা) ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ফরম ছিনিয়ে নিয়ে মনগড়াভাবে কমিটি ঘোষণা করেছেন সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী। গৌরনদী পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের গেরাকুল বেগম আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার, স্বর্ণালী আক্তার, সজিব মাতুব্বর, সাকিল বেপারীসহ একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য স্কুল থেকে ফরম সংগ্রহ করা সত্বেও তাদের স্কুলে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
অপরদিকে তৃতীয় বারের মত অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচনে দলীয় করন এবং স্বজনপ্রীতির কারনে সরকারের উদ্যোগে ভাটা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম বার অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেশ ব্যাপী যতটা ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছিলো এবার নির্বাচনে তেমন প্রভাব পড়েনি। অবশ্য নগর এবং গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রার চিত্র আবার ভিন্ন কিছু বলে দিচ্ছে। এখানকার নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা উৎসহ-উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন উপভোগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার মধ্যে ভোট গ্রহন এবং পরবর্তীতে গননা শেষে নির্বাচিত স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট সদস্য নাম ঘোষনা হয়েছে। এর মধ্যে থেকেই একজনকে প্রধান মন্ত্রী এবং বাকি ৭ জনকে মন্ত্রি হিসেবে ৮টি বিষয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হবে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন।