শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নার্সেস এসোসিয়েশনের একাত্মতা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ দিনের ন্যায় নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ। অপরদিকে আন্দোলনের চতুর্থ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন (বিডিএনএ) বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় কমিটি। এদিকে দফায় দফায় বৈঠক করেও মেডিকেল কলেজ ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা সমাধান করতে পারেনি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ডাক্তার ও কর্মচারীদের বাস ভবনে প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রীর আবাসনের সিদ্ধান্ত হলেও বাকি দেড়শ ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে এখনো মহা বিপাকে কর্তৃপক্ষ। ফলে ঢাকার সিদ্ধান্তের দিকে চেয়ে আছেন তারা। সূত্রমতে, মেডিকেল কলেজ পুরাতন ছাত্রী হোস্টেলটি ঝুকিপূর্ন ঘোষনার পরে ঐ হোস্টেলের ছাত্রীদের আবাসনের জন্য পার্শ্ববর্তী নার্সিং কলেজের নব নির্মিত একাডেমিক কাম প্রশাসনিক বিভাগটি সাময়িক সময়ের জন্য আবাসীক হল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা তাদের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি রক্ষার দাবীতে গত ১৫ মার্চ থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। সেই থেকে গতকাল চতুর্থদিন রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচীর পাশাপাশি বিক্ষোভ কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। নার্সিং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চতুর্থদিনে তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিডিএনএ জেলা ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিডিএনএ’র জেলা ও বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক ফরিদুন্নেছা এবং জেলার সভাপতি আসমা রেজওয়ানা কলির নেতৃত্বে তারা আন্দালনরত শিক্ষার্থীদের সাথে এক হয়ে একাডেমিক ভবন কাম প্রশাসনিক ভবনটি রক্ষায় আন্দোলনে অংশ নেয়। এর আগে শেবাচিম হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বিডিএনএ কার্যালয়ে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিডিএনএ’র সভাপতি আসমা রেজওয়ানা কলির সভাপতিত্বে সভায় একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি মলিনা মন্ডল, জেলা ও বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক ফরিদুন্নেছা, জেলার সহ-সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন খান, আনোয়ার হোসেন খান, নার্সেস সুপারভাইজার মরফিয়া আক্তার, আলেয়া পারভিন, শাহানা পারভিন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের খান, প্রচার সম্পাদক আবু জাফর।
সভায়, বরিশাল নার্সিং কলেজের নব নির্মিত ও ব্যবহৃত একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনকে কেন্দ্র করে যে অনাকাংখিত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে এর জন্য বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ভবনটিতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধিনে চুড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা চলছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ও পরীক্ষার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই ভবন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। কেননা শিক্ষার্থীদের উপর বর্তমানে যে মানসিক নির্যাতন হচ্ছে তা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়া যায় না। তাই এই মানসিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিডিএনএ নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনে মেডিকেল কলেজ ছাত্রীদের আবাসনের সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবী জানান।
অপরদিকে বরিশাল নার্সিং কলেজ ছাত্রী মাকসুদা আক্তার পরিবর্তনকে জানান, আমরা না খেয়ে, না পড়ে আমাদের একমাত্র নব নির্মিত একাডেমিক ভবনটি রক্ষায় আন্দোলন করছি। সে দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না। অথচ মেডিকেল ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে তারা উঠে পড়ে লেগেছেন । তিনি বলেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
নার্সিং ছাত্রী সুশমিতা মল্লিক বলেন, প্রয়োজনে রাজপথে নেমে আন্দোলন করব। তার পরেও আমাদের একমাত্র একাডেমিক ভবনটি হাত ছাড়া হতে দিব না। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিগত দিনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পূর্বেও দু’বার মেডিকেল ছাত্রীদের আবাসনের জন্য আমাদের নার্সিং হোস্টেল কাম ক্লাস রুম ছাত্রী নিবাসে পরিণত করে রাখে। মাত্র দুই মাসের কথা বলে বছরের পর বছর হোস্টেল ভবন জবর দখল করে রাখে তারা। দীর্ঘ বছর পরে এসে আবারও তারা আমাদের একাডেমিক ভবনটি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। লেখাপড়া করার ভবনটিকে হোস্টেলে পরিণত করতে চাচ্ছে। এটা কখনই হতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচী দিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, আগামী ২২ মার্চ কলেজ খুলছে। দু’একদিনের মধ্যেই ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ফিরবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারিনি।
তিনি আরো বলেন, প্রায় সাড়ে ৩শ ছাত্রীর মধ্যে মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডের মধ্যে তৃতীয় শ্রেনী ষ্টাফ কোয়ার্টার, ডাক্তার কোয়ার্টার, অধ্যক্ষের বাসভবন সহ কয়েকটি স্থাপনায় আড়াইশ’র মত ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকি দেড়শ ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা কোন মতেই সম্ভব হচ্ছে না। নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনটি পেলে আর কোন সমস্যা থাকত না। কিন্তু নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীরা ভবনটি দিতে রাজি হচ্ছে না।
ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, নার্সিং কলেজের ছোট ছোট মেয়েরা আন্দোলন করছে। ওদের উপরে আঘাত করে জোর করে ভবনটি দখলে নিতে পারব না। তাই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি অবহিত করেছি। এখন তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই সিন্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা করা হবে।