শিক্ষকের প্রহারে হাসপাতালে ছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ এখানো থামছে না বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর শিক্ষকের অমানসিক প্রহারের ঘটনা। এরকমের একর পর এক ঘটনার পরে এবার নগরীতেই বিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্কুল শিক্ষক। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর বিএম কলেজ সংলগ্ন কলেজিয়েট স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র রনি সিকদার (১৫) কে অজ্ঞান অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রনি নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার ফিশারী রোডের মিজানুর রহমানের ছেলে।
এদিকে শিক্ষকের নির্মম প্রহারে কিশোর ছাত্র হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনলেও কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষের। এমনকি ছাত্রের বাবা প্রধান শিক্ষকের নিটক অভিযোগ করলেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। উল্টো ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে প্রধান শিক্ষক বলছেন, বাসা থেকে না খেয়ে ক্লাসে আসায় ছাত্রটি অসুস্থ হয়েছে। একজন দায়িত্ববান শিক্ষকের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে ছাত্রের পরিবার।
আহত ছাত্রের বাবা মিজানুর রহমান ছেলের বরাত দিয়ে জানান, বেলা ১১টার দিকে কলেজিয়েট স্কুলে কর্মজীবন ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক আব্দুল মান্নান। এসময় শিক্ষক ক্লাশের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পড়তে বলেন। তার ছেলে রনি একটু দেড়ি করে পড়া শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয় শিক্ষক আব্দুল মান্নান। এক পর্যায় তার হাতে থাকা প্লাষ্টিকের পাইপ দিয়ে ক্লাস কক্ষের মধ্যেই এলোপাথারী পেটাতে থাকেন ছাত্র রনিকে। তার আত্মচিৎকার আর আর্তনাদ থামাতে পারেনি শিক্ষন মান্নানের অমানবিক আচারন। এক পর্যায় ক্লাশের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে রনি। এর কিছুক্ষন পর চিকিৎসা ব্যবস্থা না করে কিশোরকে সহপাঠিদের দিয়ে পাঠিয়ে দেন তাদের বাসায়।
মিজানুর রহমান জানান, ছেলের সহপাঠিদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে স্কুলে যান। গিয়ে এমন নির্মম আচরনের প্রতিবাদ এবং প্রধান শিক্ষকের নিকট এর বিচার দাবী করেন। বিষয়টি দেখার কথা বললে ছেলেকে নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রের প্রতি নির্যাতনকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহম্মেদ অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি দাবী করেন রনিকে মারা হয়নি। সে সকালে বাসা থেকে না খেয়ে ক্লাসে এসেছে। তাই ক্লাশের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ জন্য কেউ দায়ী নন।
এদিকে শুধু মাত্র কলেজিয়েট স্কুলেই নয়, এর পূর্বেও বরিশাল নগরী সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকের নির্মম নির্যাতন এবং প্রহারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে একাধিক বার আজকের পরিবর্তন সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার পরেও এ নিয়ে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করার ফলে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর শিক্ষকদের নির্মম প্রহার একের পর এক ঘটেই চলেছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।