শারদীয় দূর্গোৎসবে আজ মহা-ষষ্ঠী

চন্দন জ্যোতি॥ শারদীয় দূর্গোৎসবে আজ দেবী দূর্গার মহা-ষষ্ঠী পূজা। মূলত বোধন, আমন্ত্রন ও অধিবাস এই দিনের প্রধান ৩টি অঙ্গ শুরু হয়। সন্ধে বেলায় বেল গাছের গোড়ায় ঘটে করে পবিত্র গঙ্গা জল রাখা হয় এবং বেল গাছটিকে শিব হিসেবে পূজা করা হয়। মনে করা হয়, বেশ কয়েক মাস পর দেবী আবার জেগে উঠেছেন। ষষ্ঠীর সারারাত দেবী বেল গাছের শাখাতেই অবস্থান করবেন। এদিকে সারাদেশের মত বরিশাল বিভাগে শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। এখন বাকী শুধু আনুষ্ঠানিক পর্বের। বরিশাল বিভাগে মোট ১৫৭২টি মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বরিশালে ৫৫৭টি, পটুয়াখালিতে ১৭৫টি, পিরোজপুরে ৪৪৪টি, বরগুনায় ১৪১টি, ঝালকাঠিতে ১৬৩টি, এবং ভোলায় ৯২টি মন্ডপ রয়েছে বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস। এর মধ্যে বরিশাল নগরীতে রয়েছে ৩৪টি। নগরীর মন্ডপগুলোকে ঘিরে ৩৫টিরও বেশি তোরণ নির্মান করা হয়েছ। তোরনগুলোর স্বাজ সজ্জায় আনা হয়েছে নানা বৈচিত্র। সেই সাথে বাহারী ঢং’র আলোক সজ্জার তোরণ গুলোর মধ্যে অমৃত লাল দে সড়কে কারিকর বিড়ি ফ্যাক্টরীর সামনের তোরন, ফলপট্টি পূজা মন্ডপ, শংকর মঠ, পাষানময়ী কালি মন্দির, কাটপট্টি পূজা মন্ডপ কেন্দ্রীক তোরণগুলো ইতিমধ্যে নগর বাসীর নজর কেড়ে নিয়েছে। শারদীয় দূর্গোৎসব সুন্দর ও সফল করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা মন্ডপ কমিটি সেই সাথে প্রশাসন ও আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে জানান, উৎসবের প্রস্তুতি শেষ এখন কেবল মূল পর্ব শুরুর অপেক্ষা। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উৎসবকে নিবিঘেœ ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগীতা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ উৎসব একটি সার্বজনিন উৎসবে পরিণত হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে মন্ডপ গুলোতে গতকাল বিকেল থেকেই পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান অতিগুরুত্বপূর্ন মন্ডপগুলোতে ৮ জন করে আনসার, গুরুত্বপূর্ন মন্ডপে ৬ জন এবং কম গুরুত্বপূর্ন মন্ডপে ৪জন করে আনসার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রয়োজন মত মন্ডপগুলোতে পুলিশ অবস্থান কিংবা টহল প্রদান করবে। সব মিলিয়ে এখন অপেক্ষা শুধু শারদীয় উৎসবকে বরণ করে নেওয়ার। আর মন্ডপে মন্ডপে ঢাকের তালে তালে নেচে ওঠা।