শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে বিদ্যুতের জন্য জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপ শুরু নিয়ে সংশয়

সাইদ মেমন/ জুবায়ের হোসেন ॥ গ্রীস্মের প্রচন্ড খড়তাপের মধ্যে দুই দিন পর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা। জমজমাট এই চ্যাম্পিয়নশীপ নির্ধারিত ১ জুন শুরু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় শুরু হয়েছে। কারন গত ৩ দিন ধরে বিভাগীয় শহরের একমাত্র এই স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ নেই। বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য তাগিদ দিয়ে ব্যর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো -১) সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। গত তিন দিনেও পুনরায় সংযোগ নেয়ার উদ্যোগ তো নেয়া হয়নি উল্টো বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
বিভাগীয় শহরে একমাত্র ষ্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গত দিন ধরে পানি নেই। অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নিতে ফ্যান কিংবা এসি কক্ষে যেতে পারছেন না। দুইদিন পড়ে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের আসর নিয়ে তো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা সদস্য সচিব সুরুজ তালুকদার।
তিনি আরো জানিয়েছেন, বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বারবার জাতীয় ক্রীড়া অধিদপ্তরের পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম পুনরায় বিদ্যুত সংযোগ নেয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। এতেও ব্যর্থ হলে জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের আসরের জন্য সংযোগ পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির শরনাপন্ন হবেন।
সুরুজ তালুকদার জানান, খেলাধুলার জন্য ব্যবহারে যে বিল আসতো। তা দেয়ার সামর্থ্য ছিলো। কিন্তু বিভিন্ন বাহিনী ও স্টেডিয়াম উন্নয়নের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের কারনে বেশি বিল হওয়ায় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা যদি তাদের ব্যবহারের জন্য টাকা দিতো তাহলে এই সমস্যায় পড়তে হয় না। বকেয়া বিলের কারনে প্রতি মাসের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়াম পূর্নতা পায় ২০০৭ সালে। ওই সময় পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমান ছিলো ৪ লাখ টাকা। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের পর স্টেডিয়ামে অস্থায়ী নিবাস গড়ে সেনাবাহিনী। এছাড়াও বিভিন্ন নির্বাচনের পূর্বে আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী এসে এখানে অবস্থান করে। স্টেডিয়াম শুধু দিনের বেলায় খেলাধুলার জন্য ব্যবহার হয়। এতে ২১ লাখ টাকার বিল বকেয়া হতো না। বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহারের কারনে ওই পরিমান বিল বকেয়া হয়েছে। সরকারের কাজে ব্যবহারের ফলেই বকেয়া বিলের সিংহভাগ এসেছে তাই মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে বকেয়া বিল জাতীয় গ্রিডে স্থানান্তর ও স্টেডিয়ামের ব্যবহারের জন্য অন্তত এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনে কোন সাড়া পাননি বলে দাবি করেছেন তিনি।
আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির বাবার মতো মানুষের নামে স্টেডিয়ামের নামকরন করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের বিল সরকারের স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ায় হয়েছে। তা অবহিত করার পরেও সংযোগ কর্তনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে স্টেডিয়াম অন্ধকারে থাকছে জানিয়ে খসরু হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, কিছুদিন পূর্বে স্টেডিয়ামে নৌ-বাহিনী অবস্থানের সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ওজোপাডিকো। পরে আবার সংযোগ দেয়া হলেও নৌ-বাহিনী চলে যাওয়ার সাথে সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্নের শর্ত দেয়। তারা যাওয়ার সাথে সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের জাতীয় আসরের বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা হলেও মানেনি ওজোপাডিকো। এতে ওই আসরটি শুরু হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ক্রীড়া প্রেমী মানুষ হিসেবে শহীদ আব্দর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামকে আলোকিত করতে সব রকম চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন আসাদুজ্জামান খসরু।
ওজোপাডিকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম বলেন, সবার জন্য নিয়ম একই। ২১ লক্ষ টাকা বিল বকেয়া। তাই একাধিক বার নোটিশ দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।