শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ষ্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু করার দাবিতে মানববন্ধন

সিদ্দিকুর রহমান ॥ শুধু ক্রিকেট প্রেমী দর্শক নয়, তৃনমূলে ক্রিকেট খেলার প্রসার বাড়াতে ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াত স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজনের দাবিতে মানববন্ধন ও গনস্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচীর আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন “বয়েজ অব বরিশাল”। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক সেরনিয়াবাত ওবায়দুল হক সাজ্জাদ। বক্তব্য দেয় বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জী, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম জাকির হোসেন, বরিশাল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক স্বপন খন্দকার, প্রথম আলো বরিশাল ব্যুরো প্রধান সাইফুর রহমান মিরন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষনা পরিষদের বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক ড. বাহাউদ্দিন গোলাপ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও বয়েজ অব বরিশালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাইদুর রহমান সোহেল প্রমুখ। এছাড়া মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করেন বেসিক ক্রিকেট একাডেমী, ট্যালেন্ট হ্যান্ট একাডেমী, দাবা উপ-পরিষদ, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ, বরিশাল হেলথ্ জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা কল্যান পুনর্বাসন ও বিনোদন কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, ফুটবল রেফারী সমিতি, কাউনিয়া থানা প্রেসক্লাব, সরকারি ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারী বরিশাল কলেজ, সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, সরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, ইনফ্রা পলিটেননিক ইনস্টিটিউট, পথকলি বিদ্যা নিকেতন, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ডিবেট ক্লাব, বরিশাল সাইকেলিষ্ট, টিম ইনোভেশন, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ফ্রি কোচিং সেন্টার সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ষ্টেডিয়াম আন্তজার্তিক খেলা অনুষ্ঠানের উপযোগি। সব ধরনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচ না হওয়ায় বক্তারা হতাশা প্রকাশ করে “অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার অভাবকে” দায়ী করেছেন। যার ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই স্টেডিয়ামটি অবহেলায় পড়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। এই ষ্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের খেলা অনুষ্ঠিত হলে তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়ার ও ক্রিকেট প্রেমীরা উপকৃত হবে জানিয়ে ষ্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থার অজুহাতে ষ্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জবাবে বক্তারা জানান, নগরীতে তিন তারকা মানের হোটেল তৈরি হয়েছে। দেশের মধ্যে সেরা নৌ-পথের লঞ্চ ছাড়াও রয়েছে বিমানে আসা যাওয়ার সুযোগ। বর্তমানে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সেরা সেবা দিচ্ছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার মতো অবস্থা তাদের রয়েছে। তাই অচিরেই প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সম্পন্ন করে স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের দাবী জানান বক্তারা।
উল্লেখ্য ১৯৬৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহফুজুর রহমানের উদ্যোগে ২৯ একর ২৫ শতাংশ জমির উপর বরিশাল স্টেডিয়াম নির্মান করা হয়। ১৯৭০ সালে স্টেডিয়ামটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। ওই সময় দু’হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারী নির্মান করা হয়। এরপর থেকে সেখানে স্থানীয় ফুটবল ও ক্রিকেট লীগের খেলা হয়। এছাড়াও ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে রূপ দিতে ২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে পুনঃনির্মান করা হয়। এখন ৩৫ হাজার দর্শকের গ্যালারী, পাঁচ তলা বিশিষ্ট প্যাভেলিয়ান ও মিডিয়া সেন্টার, ফ্লাড লাইট, স্টেডিয়াম প্রধান গেট, পাবলিক টয়লেট, সংযোগ সড়ক রয়েছে । এরপর থেকে অলসভাবে পড়ে আছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বরিশাল স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের কাজ। ২০০৯ সালে এই স্টেডিয়ামে ৫টি সেন্ট্রাল উইকেট ও ৪টি প্রাকটিস উইকেট এবং আডটফিল্ড ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সিদ্ধান্ত গ্রহনের দীর্ঘ ৯ মাস পর ওই বছরের অক্টোবর মাসে তড়িঘড়ি করে ৩টি সেন্ট্রাল ও ৪টি প্রাকটিস উইকেট তৈরি করা হয়। এরপর আউট ফিল্ড ঠিক করার জন্য ওই সময় কিছু মাটি ফেলা হলেও সংস্কার করা হয়নি। এরপর ২০১০ সালের দিকে তৈরি করা হয় আউটফিল্ড। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন আন্তর্জাতিক খেলার মুখ দেখেনি বরিশালবাসী।
শহীদ আব্দুর রব