শফিক হত্যা মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় গলাচিপায় স্বামী-স্ত্রী-কন্যা খুন

গলাচিপা প্রতিবেদক ॥ গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নিজ ঘরে খুন হয়েছে স্বামী-স্ত্রী ও পালিত কন্যা। মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও বুধবার রাতে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকতারা এসে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। পুলিশের ধারনা, নিহত তিনজন একটি হত্যার মামলা স্বাক্ষী থাকায় তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৭),তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৪৩) এবং তার মেয়ে কাজলি আক্তার (১৮)।
স্থানীয়রা সাধারন লোকজন জানান, দেলোয়ার হোসেন মোল্লা পরিবারের সাথে তাঁর (দোলোয়ার) বোন সম্পর্কের রোকেয়া বেগম নামের এক মহিলার ছেলে মাইনুদ্দিন ও মোকারফদের বিরোধ ছিল জমি নিয়ে। ওই বিরোধের ফলে দিনেরবেলা প্রকাশ্যে মাইনুদ্দিন গ্রুপ ইদ্রিস মোল্লার ছেলে দোলোয়ারের ভাতিজা দশম শ্রেণি পড়–য়া ছাত্র শফিককে নৃশংস ভাবে কুপয়ে হত্যা করে ১১ফেব্রুয়ারী। ওই ঘটনায় মাইনুদ্দিনসহ তাঁর গ্রুপের ২০জনকে অভিযুক্ত করে গলাচিপা থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলাটি পুলিশ তদন্ত না করে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। শফিক হত্যা মামলার কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় মামলার বাদি শফিকের বাবা ইদ্রিস মোল্লাসহ মামলার স্বাক্ষীদের মামলা তুলে নিতে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল আসামীরা। এসব নানা বিষয় উল্লেখ করে ইদ্রিস মোল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন প্রায় দুই মাস আগে। কিন্তু তাতেও কোন ফল পায়নি। এছাড়া শফিক হত্যা মামলার স্বাক্ষী ছিলেন দেলোয়ার, তাঁর স্ত্রী পারভীন বেগম এবং মেয়ে কাজলি আক্তার। আসামীদের ভয়ভীতির মুখে ভাতিজা হত্যা মামলার স্বাক্ষী দেলোয়ার পরিবার ঘটনার পরপর ঢাকায় গিয়ে কয়েক মাস আশ্রয় নেন এবং প্রায় একমাস আগে বাড়িতে ফিরে আসেন। ওই হত্যা মামলায় পুলিশি তৎপরতা না থাকার সুযোগে আসামীরা ওই ত্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটাতে সাহস পায়।
এদিকে আসামীদের অব্যাহত হুমকির মুখে শফিক হত্যা মামলার বাদি ইদ্রিস মোল্লা ও তাঁর পরিবার নিজ বাড়িঘর ছেড়ে ঘটনার পরপর পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এখনও ওই বাড়িতেই বসবাস করছেন ইদ্রিস।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোঃ হেলাল জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘরে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পাশের বাড়ীর এক মহিলার তাদের খোঁজ নিতে আসেন। এসময় তাদের ঘর থেকে কোন সারাশব্দ না পেয়ে ডাক চিৎকার করেন। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ হেলালসহ স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় তাদের রক্তাত্ব দেহ পরে থাকতে দেখেন। তিনি আরো জানান দোলোয়ারের মেয়ে কাজলির দেহ থেকে শির আলাদা করা হয়েছে এবং তার মা ও বাবাকে উপর্যপুরি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় পারভীন বেগমের লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে তিনি গলাচিপা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ এসে ঘটনা প্রত্যক্ষ করে লাশ উদ্ধার করেন। এদিকে গত ১১ ফেব্রুয়ারী সফিক হত্যার ঘটনার পর থেকে ওই মামলার আসামীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মইনুদ্দিন গ্রুপ দোলোয়ার ও ইদ্রিস মোল্লার জমি দখল করে।
এদিকে আসামী গ্রেপ্তার না হওয়াসহ নানা ধরণের হুমকির মুখে শফিক হত্যার বাদি ইদ্রিস মোল্লা পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন প্রায় দুই মাস আগে। কিন্তু তাতেও কোন সাড়া পায়নি পরিবারটি।
পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে যারা খুন হয়েছে তারা সিআইডিতে গিয়ে স্বাক্ষী দিয়েছিল। এ কারণে আসামীরা ধরে নেয় তাদের বড় ধরণের সাজা হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে তারা।